গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। রেস্তোরাঁয় বিলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভিস চার্জ যোগ করা যাবে না, এই নির্দেশ আবারও স্পষ্ট করেছে ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রক। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া সার্ভিস চার্জ নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, সার্ভিস চার্জ কোনওভাবেই বাধ্যতামূলক নয়। এটি সম্পূর্ণ গ্রাহকের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। অনেক রেস্তোরাঁ এতদিন বিলের সঙ্গে আলাদা করে ৫% বা ১০% সার্ভিস চার্জ যোগ করত। অনেক ক্ষেত্রে ছোট হরফে বা এমনভাবে লেখা থাকত, যাতে গ্রাহক মনে করেন এটি দিতেই হবে। কিন্তু মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, এই ধরনের পদ্ধতি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের সামিল।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মেনু কার্ডে যে খাবারের দাম লেখা থাকে এবং তার সঙ্গে প্রযোজ্য কর (যেমন জিএসটি) যোগ করেই মোট বিল তৈরি করতে হবে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনও টাকা নেওয়া যাবে না, যদি না গ্রাহক নিজে থেকে দিতে রাজি হন। কেউ যদি স্পষ্টভাবে বলেন যে তিনি সার্ভিস চার্জ দেবেন না, তাহলে রেস্তোরাঁকে সেই টাকা বিল থেকে বাদ দিতেই হবে।
মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, সার্ভিস চার্জ না দেওয়ার কারণে কোনও গ্রাহককে হেনস্তা করা, চাপ সৃষ্টি করা বা পরিষেবা দিতে অস্বীকার করা আইনত অপরাধ। এই বিষয়ে রেস্তোরাঁর কর্মীদেরও সচেতন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রাহকের সঙ্গে কোনও অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক না হয়।
ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই সার্ভিস চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। অনেকেই জানতেন না যে এটি বাধ্যতামূলক নয়। সরকারের এই স্পষ্ট ঘোষণায় সেই বিভ্রান্তি দূর হবে এবং গ্রাহকরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন।
সরকার জানিয়েছে, যদি কোনও রেস্তোরাঁ এই নির্দেশ অমান্য করে, তাহলে গ্রাহক ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অধীনে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানার পাশাপাশি কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সবমিলিয়ে, রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে গ্রাহকদের জন্য বার্তা একটাই, সার্ভিস চার্জ দেওয়া আপনার ইচ্ছা। জোর করে নিলে তা বেআইনি, আর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সম্পূর্ণ আপনার।
