আজকাল ওয়েব ডেস্ক: নানা ধরণের উপকারি ও স্বাস্থ্যকর গুনাগুণে ভরপুর হলুদ আমাদের সকলেরই ডায়েটে কম বেশি থাকে।সকালে এক টুকরো কাঁচা হলুদ গুড় দিয়ে খেলে ত্বক ও রক্ত পরিষ্কারের কাজ করে। আবার কখনও সারাদিনে একের বেশিবার দুধের সঙ্গে গুঁড়ো হলুদ মিশিয়ে খাচ্ছেন অনেক উপকারের আশায়। হ্যাঁ স্বাস্থ্যকে সঠিক দিকে পরিচালিত করতে হলুদের ঔষধি গুণ বহু পুরনো আয়ুর্বেদিক পন্থা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এর অতিরিক্ত ভাল ফল পেতে হলে বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে ভালর বদলে হতে পারে খারাপ ফল। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রচুর।তাই জেনে নিন কিভাবে কতটা খেলে আপনি এর থেকে উপকৃত হবেন।
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান থাকায় রোগ-ব্যাধি দূরে রাখতে পারে হলুদ। তবে প্রতিদিন বেশি কাঁচা হলুদ খাওয়া সকলের জন্য মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়।
বেশি কাঁচা হলুদ খেলে কিডনিতে পাথর হতে পারে। শরীরে ক্যালশিয়াম শোষণ বিঘ্নিত করে হলুদ। যার ফলে প্রয়োজনীয় উপাদান ছেঁকে, বর্জ্য শরীরের বাইরে বার করতে পারে না বৃক্ক। বহুদিন ধরে জমতে থাকলে সেগুলিই ক্যালশিয়াম অক্সালেট জাতীয় পাথরে পরিণত হয়।
শরীরকে গরম করে তোলে হলুদ। তাই আয়ুর্বেদশাস্ত্র অনুযায়ী যাদের পিত্তদোষ আছে, তারা এই মশলা এড়িয়ে চলুন। গরমকালে রান্নায় হলুদ কম ব্যবহার করুন। হলুদের অনিয়মিত ব্যবহারে পেটে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। বিশেষত যাঁদের যকৃত্, অগ্ন্যাশয়ে কোনও রকম ঘা আছে তারা এড়িয়ে চললেই ভাল।
হলুদ থেকে অনেকের অ্যালার্জি হয়। যাদের ত্বকে অ্যালার্জি চুলকানি একজিমা আছে, তারা বেশি হলুদ খেলে ত্বকে সংক্রমণ, পেট ব্যথা-সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অ্যালার্জি বাড়লে পেটের গণ্ডগোল, গা বমিভাব, ডায়রিয়া সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মনে রাখবেন, রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না হলুদ।তাই মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময় বেশি হলুদ খেলে রক্তক্ষরণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই সাবধান হন।
অতিরিক্ত হলুদের ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ওষুধের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই মনএক জন পূর্ণবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৫০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হলুদ খেতে পারেন, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
