শীতে অনেকের বাড়িতে গুড়ের ব্যবহার বেড়ে যায়। রুটি-গুড়, মুড়ি-গুড়, পিঠে-পুলি কিংবা দুধের সঙ্গে গুড়-সবেতেই এর ব্যবহার জনপ্রিয়। গুড় শুধু স্বাদেই ভাল নয়, স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপকারী। এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়ামের মতো খনিজ থাকে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে নকল বা ভেজাল গুড় পাওয়া যাওয়ায় সতর্ক হওয়া খুব জরুরি।

অনেক সময় গুড়কে দেখতে সুন্দর ও উজ্জ্বল করার জন্য তাতে কেমিক্যাল, চুন, সোডা বা কৃত্রিম রং মেশানো হয়। এই ধরনের ভেজাল গুড় শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই গুড় কেনার পর সেটি আসল না নকল, তা বাড়িতেই কিছু সহজ উপায়ে পরীক্ষা করে নিতে পারেন। 

জলের পরীক্ষাঃ এক গ্লাস পরিষ্কার জলে গুড়ের একটি ছোট টুকরো ফেলুন। খাঁটি গুড় সাধারণত ধীরে ধীরে জলের নীচে বসে যায় এবং জল খুব বেশি নোংরা করে না। কিন্তু যদি গুড় নকল হয়, তাহলে তা দ্রুত গলে যেতে পারে বা জলে সাদা বা কাদার মতো স্তর দেখা যেতে পারে।

রং ও চেহারাঃ আসল গুড় সাধারণত গাঢ় বাদামি বা হালকা কালচে রঙের হয়। খুব বেশি চকচকে বা উজ্জ্বল হলুদ রঙের গুড় দেখলে সতর্ক হওয়া দরকার। কারণ অতিরিক্ত উজ্জ্বল রং মানেই তাতে কৃত্রিম রং থাকতে পারে।

হাতের স্পর্শে বোঝাঃ গুড় হাতে নিয়ে একটু চাপ দিলে যদি নরম লাগে এবং সামান্য আঠালোভাব থাকে, তাহলে সেটি খাঁটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নকল গুড় অনেক সময় খুব শক্ত হয় বা একদম শুকনো ও ভঙ্গুর লাগে।

লেবু বা ভিনিগার ব্যবহারঃ এক গ্লাস জলে গুড় গুলে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস বা ভিনিগার দিন। যদি সঙ্গে সঙ্গে ফেনা বা বুদবুদ ওঠে, তাহলে বুঝতে হবে গুড়ে ভেজাল থাকতে পারে। খাঁটি গুড়ে সাধারণত এই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

এই ছোট ছোট পরীক্ষাগুলো খুব সহজেই বাড়িতে করা যায়। এতে আলাদা কোনও যন্ত্র বা খরচের প্রয়োজন নেই। বাজার থেকে গুড় কেনার সময়ও পরিচিত দোকান বা বিশ্বাসযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে কেনাই শ্রেয়। সচেতন হলে সহজেই ভেজাল গুড় এড়িয়ে চলা সম্ভব। খাঁটি গুড় বেছে নিলে স্বাদও ভাল হবে, আবার শরীরও থাকবে সুস্থ।