দেশি ঘি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশি ঘি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদে নানা রোগের চিকিৎসায় ঘিয়ের ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, খাঁটি ঘিকে ‘অমৃত’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খাবার হিসাবে নয়, ত্বকে লাগালেও দেশি ঘি অসাধারণ উপকার দিতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা থেকে হাড় মজবুত করা, সব ক্ষেত্রেই ঘিয়ের ভূমিকা রয়েছে। তবে অনেকেই জানেন না, ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতেও দেশি ঘি অত্যন্ত কার্যকর। দামি স্কিন কেয়ার ক্রিমের তুলনায় অনেক সময় ঘি আরও ভাল কাজ করে। এটি ত্বককে ভিতর থেকে পুষ্টি জোগায়, শুষ্কতা কমায় এবং স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে।

আয়ুর্বেদ মতে, ঘি শরীরের বাত ও কফ দোষের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই দুই দোষই বিভিন্ন ত্বকের সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। সেক্ষেত্রে দেশি ঘি দোষনাশে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। ঘি ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগায়, ময়লা দূর করে, মৃত কোষ অপসারণে সাহায্য করে এবং মুখে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা আনে। বিশেষ করে বয়সের ছাপ পড়া রোধ করতেও ঘিয়ের গুণ অনস্বীকার্য। মুখের বলিরেখা কমাতে নিয়মিত ঘি খাওয়া উপকারী বলে মনে করা হয়। সাধারণত সব ধরনের ত্বকের জন্যই ঘি উপযোগী বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশি ঘি ত্বককে নরম রাখে এবং শীতকালে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে। তবে ঘি ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি ও কিছু সতর্কতা জানা জরুরি। সীমিত পরিমাণে খাবারের সঙ্গে ঘি গ্রহণ করা যেতে পারে। সকাল ও দুপুরের খাবারে ঘি ব্যবহার করা ভাল। পাশাপাশি, রাতে ঘুমনোর আগে মুখের শুষ্ক অংশে অল্প পরিমাণ ঘি লাগানো যেতে পারে। তবে ঘি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা অবশ্যই মানতে হবে।

আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের মতে, যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ঘি অল্প পরিমাণে খাওয়া উচিত। যাঁদের ত্বক তেলতেলে, তাঁদের ক্ষেত্রেও ঘি কম ব্যবহার করাই ভাল, কারণ এতে ব্রণ বা অ্যাকনের সমস্যা বাড়তে পারে। হৃদরোগী ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। হৃদরোগীদের সাধারণত কম ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ ঘি কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। একইভাবে, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাঁদেরও ঘি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।