আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনেক সময় মুখে যে কথা বলা যায় না, তার চেয়ে ঢের বেশি কথা বলে দেয় শরীরী সুগন্ধ। প্রেম, স্মৃতি বা স্রেফ ভাল লাগার অনুভূতির সঙ্গে গন্ধের যোগসূত্র বহু প্রাচীন। তবে শুধু আবেগ বা স্মৃতিচারণই নয়, শারীরিক আকর্ষণ এবং যৌন উত্তেজনা বাড়াতেও সুগন্ধের এক আশ্চর্য ভূমিকা রয়েছে, যার পিছনে লুকিয়ে আছে মনস্তত্ত্ব এবং বিজ্ঞানের এক জটিল সমীকরণ।
কিন্তু কীভাবে কাজ করে এই অদৃশ্য রসায়ন? আমাদের ঘ্রাণশক্তি অন্য চারটি ইন্দ্রিয়ের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। যে কোনও গন্ধ সরাসরি মস্তিষ্কের ‘লিম্বিক সিস্টেম’-এ গিয়ে আঘাত করে। এই লিম্বিক সিস্টেমই হল আমাদের আবেগ, স্মৃতি এবং প্রবৃত্তির কেন্দ্র। ফলে, কোনও বিশেষ সুগন্ধ মস্তিষ্কের এই অংশে পৌঁছনো মাত্রই আমাদের অবচেতনে থাকা আবেগ বা স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে। তাই কোনও কোনও আকর্ষণীয় সুবাস সরাসরি আমাদের যৌন প্রবৃত্তিকে উদ্দীপিত করার ক্ষমতা রাখে। মনোবিদদের মতে, সুগন্ধ মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত করতেও সাহায্য করে, যা শারীরিক মিলনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। যে ব্যক্তি নিজের পছন্দের সুগন্ধ ব্যবহার করেন, তাঁর আত্মবিশ্বাসও বহুলাংশে বেড়ে যায়। এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে সঙ্গীর চোখে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

এখন প্রশ্ন হল, কোন কোন গন্ধ এই আকর্ষণের খেলাতে অনুঘটকের কাজ করে? যুগ যুগ ধরে কিছু বিশেষ সুগন্ধ তাদের যৌন উত্তেজক গুণের জন্য পরিচিত। এই তালিকায় প্রথমেই আসে ভ্যানিলার নাম। এর মিষ্টি, উষ্ণ সুবাস স্নায়ুকে শান্ত করে এবং এক আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে, যা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের জন্য আদর্শ।
ফুলের গন্ধের মধ্যে জুঁই বা ‘কুইন অফ দ্য নাইট’-এর আবেদন চিরন্তন। এর তীব্র অথচ মাদকতাপূর্ণ সুবাস মহিলাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও আকর্ষণ দুই-ই বাড়িয়ে তোলে বলে মনে করা হয়। একই ভাবে, গোলাপের গন্ধ প্রেমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং তা মনে রোমান্টিকতার অনুভূতি জাগায়।
ইলাং-ইলাং-এর মতো ফুলের সুবাস মানসিক উদ্বেগ কমিয়ে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং শারীরিক উত্তেজনা বাড়াতে সাহায্য করে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে চন্দন বা স্যান্ডালউডের উষ্ণ গন্ধ কিংবা মাটির মতো গন্ধ অত্যন্ত জনপ্রিয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই গন্ধ পুরুষদের শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ ‘অ্যান্ড্রোস্টেরন’-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা মহিলাদের তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। কস্তুরী বা মাস্ক-এর তীব্র, আদিম গন্ধ সরাসরি যৌন প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে বলে মনে করা হয়। এ ছাড়াও, দারচিনি বা আদার মতো মশলার উষ্ণ গন্ধ শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় এবং এক ধরনের উদ্দীপনা তৈরি করে।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, গন্ধের আবেদন অনেকটাই ব্যক্তিগত রুচি এবং স্মৃতির উপর নির্ভরশীল। যে গন্ধ একজনের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়, তা অন্যজনের কাছে সাধারণ মনে হতেই পারে। তাই সঙ্গীর পছন্দ জেনে সুগন্ধি ব্যবহার করলে এই ‘অদৃশ্য রসায়ন’ আরও জোরদার হয়ে ওঠে। সব শেষে বলা যায়, সুগন্ধ হল এক নীরব ভাষা, যা শব্দ ছাড়াই শারীরিক আকর্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম।
