আজকাল ওয়েবডেস্কঃ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বেশ কিছু সাধারণ গৃহস্থালি সামগ্রী রয়েছে যা আমরা খুব শখ ঘরে রাখি। কিন্তু তারই মধ্যে কয়েকটি জিনিস স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। কারণ এই সামগ্রীগুলো ধীরে ধীরে শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে। তাই যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি থেকে সেইসব জিনিস সরিয়ে ফেলাই শ্রেয়।
১. প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ডঃ প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ডে বারবার কাটাকাটি করার ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হতে পারে, যা খাবারের সঙ্গে আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে অনেক জটিল সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মত, কাঠ বা কাঁচের কাটিং বোর্ড ব্যবহার করা উচিত। যদিও কাঠের বোর্ডে ব্যাকটেরিয়া জমার আশঙ্কা থাকে এবং কাঁচের বোর্ডে ছুরি ভোঁতা হতে পারে। তবে এই দুটি প্লাস্টিকের তুলনায় ভাল।
২. দাগ হওয়া নন-স্টিক প্যানঃ নন-স্টিক প্যানের উপর আঁচড় বা দাগ থাকলে তা থেকে পিএফএএস নামক রাসায়নিক নির্গত হয়, যা স্বাস্থ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে স্টেইনলেস স্টিল বা কাস্ট আয়রনের পাত্র ব্যবহার করা নিরাপদ এবং টেকসই।
৩. প্লাস্টিকের পাত্রঃ প্লাস্টিকের পাত্র, বিশেষ করে যেগুলি পুরনো বা গরম খাবার সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়, তা থেকে বিপিএ বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক নির্গত হতে পারে। এই রাসায়নিকগুলি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মত, কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা উচিত।
৪. অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল: অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল অ্যাসিডিক খাবারের সঙ্গে বা বেশি তাপমাত্রায় ব্যবহার করলে খাবারে ধাতু ঢুকে যেতে পারে। যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে স্নায়বিক সমস্যা এবং আলঝাইমারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরিবর্তে বেকিংয়ের জন্য পার্চমেন্ট পেপার এবং পুনরায় গরম ও সংরক্ষণের জন্য কাচ বা সিলিকন পাত্র ব্যবহার করতে পারেন।
৫. প্লাস্টিকের রান্নার পাত্র: তাপের সংস্পর্শে এলে প্লাস্টিকের স্প্যাটুলা এবং চামচ থেকে অগ্নি প্রতিরোধক, রঞ্জক এবং মাইক্রোপ্লাস্টিকের মতো বিষাক্ত পদার্থ নির্গত হতে পারে। এগুলো খাবারে প্রবেশ করে শরীরে জমা হতে পারে, যা প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদী বিষাক্ততার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বদলে কাঠ, বাঁশ অথবা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন। এগুলো যেমন নিরাপদ, তেমন টেকসই এবং পরিবেশ বান্ধবও।
















