এই শীতে চারপাশে তাকালেই মনে হচ্ছে যেন সকলেই একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ঠান্ডা আবহাওয়া, বাড়তে থাকা বায়ুদূষণ এবং উৎসবের মরশুমের ব্যস্ত জীবনযাপন, সব মিলিয়ে শরীর খারাপ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সময়ে জ্বর একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে কখনও কখনও এটি গুরুতর কোনও অসুস্থতার ইঙ্গিতও হতে পারে।
জ্বর মূলত তখনই হয়, যখন মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস সংক্রমণ, প্রদাহ বা অন্য কোনও শারীরিক চাপের প্রতিক্রিয়ায় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়, জীবাণুর বৃদ্ধি ধীর হয় এবং শ্বেত রক্তকণিকা আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ, জ্বর অনেক সময় শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারই একটি অংশ।
এক পডকাস্টের একটি পর্বে জ্বর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ডা. নভনীত অরোরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ‘দ্য ফিভার ডক্টর’ নামেও পরিচিত। সেই আলোচনায় তিনি জ্বর হলে যে তিনটি বড় ভুল অনেকেই করে থাকেন, সেগুলি তুলে ধরেন। এগুলি জানলে সহজেই তা এড়ানো যায়।
ডা. অরোরার মতে, প্রথম এবং সবচেয়ে বড় ভুল হল নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া। এতে জ্বরের আসল কারণ ধরা পড়ে না এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়। দ্বিতীয়ত, তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলেও অনেকেই তা গুরুত্ব দেন না বা বিপদের লক্ষণ উপেক্ষা করেন, যা ভবিষ্যতে জটিলতা বাড়াতে পারে। তৃতীয় ভুলটি হল চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ইন্টারনেট বা অযোগ্য সূত্রের কথায় ভরসা করে চিকিৎসা করা। যা অনেক সময় উপকারের বদলে ক্ষতিই করে।
জ্বরের ক্ষেত্রে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্বও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন ডা. অরোরা। তাঁর সতর্কবার্তা, নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বা ভুল তথ্যের উপর নির্ভর করলে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা বিলম্বিত হয়, পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জটিলতার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “চিকিৎসা করাতে গেলে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের কাছে যান। মাঝামাঝি পথে চলবেন না। একটা ওষুধ দু’ডোজ খেয়ে, আবার অন্য ওষুধ শুরু করে দেওয়া ঠিক নয়। এতে শেষে দেখা যায় কিছুই কাজ করছে না। একটাই নীতি রাখুন। যখন নিশ্চিত নন, তখন থামুন। আর যখন নিশ্চিত, তখন অন্য কারও কথা শুনবেন না।”
