ভয় শুধু মনের অনুভূতি নয়, মানুষের শরীর থেকেও এর স্পষ্ট সংকেত বের হয়। আমরা যখন ভয় পাই, তখন শরীর থেকে বিশেষ কিছু রাসায়নিক বের হয়, যা ঘামের সঙ্গে মিশে যায়। মানুষ সাধারণত তা বুঝতে পারে না, কিন্তু অনেক প্রাণী এই ভয়ের গন্ধ খুব সহজেই ধরে ফেলতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কিছু প্রাণীর ঘ্রাণশক্তি এতটাই তীক্ষ্ণ যে তারা মানুষের মানসিক অবস্থাও বুঝে নিতে পারে।

এই তালিকায় সবার আগে আসে কুকুর। কুকুরের নাক মানুষের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। কেউ ভয় পেলে তার শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। কুকুর সেই গন্ধ টের পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে আচরণ বদলে ফেলে। তাই অনেক সময় দেখা যায়, কেউ ভয় পেলে কুকুর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বা অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে যায়। এই কারণেই পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে কুকুরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ঘোড়ারাও মানুষের ভয় বুঝতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভয়ের কারণে মানুষের শরীরের ঘাম ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ধরন বদলে যায়, যা ঘোড়া সহজেই শনাক্ত করে। তাই যারা ঘোড়ায় চড়েন, তাদের বলা হয় শান্ত থাকতে। ভয় পেলে ঘোড়াও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

সমুদ্রের ভয়ংকর প্রাণী শার্ক নিয়েও এমন তথ্য মিলেছে। শার্ক জলের মধ্যে খুব সামান্য রাসায়নিক পরিবর্তনও ধরতে পারে। কেউ আতঙ্কিত হলে তার শরীর থেকে যে রাসায়নিক বের হয়, তা জলে মিশে গেলে শার্ক সেটি টের পায়। যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধুমাত্র ভয় পেলেই শার্ক আক্রমণ করে, এমনটা সবসময় নয়।

এছাড়াও সাপ ও ইঁদুর ভয় সংক্রান্ত গন্ধ বুঝতে সক্ষম। সাপ পরিবেশে বিপদের সংকেত পেলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। ইঁদুররা আবার নিজেদের দলকে সাবধান করতে ভয়ের গন্ধ ব্যবহার করে।

বড় প্রাণীদের মধ্যে হাতি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সংবেদনশীল। তারা মানুষের শরীরের গন্ধ ও আচরণ দেখে ভয় বুঝতে পারে। একইভাবে খরগোশের মতো শিকারি প্রাণীরাও সামান্য আতঙ্কের গন্ধ পেলেই দ্রুত পালিয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষমতা প্রাণীদের বাঁচার জন্য খুবই জরুরি। ভয়ের গন্ধ বুঝে তারা আগেভাগেই বিপদ সম্পর্কে সতর্ক হতে পারে। তাই বলা যায়, প্রকৃতি প্রাণীদের এমন এক অসাধারণ শক্তি দিয়েছে, যা মানুষের অনুভূতিও গন্ধ দিয়ে বুঝে নিতে পারে।