বোতলের জল পান করা অনেকেরই রোজের অভ্যাস। বাইরে বেরলে, অফিসে বা বেড়ানোর সময় বোতলের জল পান করা সবচেয়ে নিরাপদ, এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষকদের মতে, যারা নিয়মিত বোতলের জল পান করেন, তারা বছরে প্রায় ৯০ হাজার পর্যন্ত অতিরিক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শরীরের মধ্যে গ্রহণ করতে পারেন।
এই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলি এতটাই ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু প্রতিবার জল খাওয়ার সময় অজান্তেই এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক আমাদের শরীরে ঢুকে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই কণাগুলি শরীরে জমতে থাকলে স্বাস্থ্যের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক মূলত প্লাস্টিকের খুব ছোট টুকরো, যা প্লাস্টিক বোতল, প্যাকেট, বাসনপত্র ও খাবার সংরক্ষণের পাত্র থেকে বার হয়। বোতলজাত জলের ক্ষেত্রেও প্লাস্টিকের বোতলের ভেতরের স্তর থেকে এই কণাগুলি জলে মিশে যেতে পারে। গরম জায়গায় বোতল রাখা হলে বা দীর্ঘদিন ধরে জল সংরক্ষণ করলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
গবেষণায় আরও জানানো হয়েছে, বাজারে যেসব জল ‘পিওর’, ‘ফিল্টার্ড’ বা ‘মিনারেল ওয়াটার’ নামে বিক্রি হয়, সেগুলিও পুরোপুরি মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত নয়। অর্থাৎ নামী বা দামি ব্র্যান্ড হলেও প্লাস্টিক কণার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না।
চিকিৎসকদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘদিন শরীরে জমতে থাকলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শরীরে প্রদাহ বা প্রদাহ বেড়ে যাওয়া, হরমোনের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া। যদিও এই সমস্যাগুলি সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না, তবে ধীরে ধীরে তা শরীরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বোতলের জল ছাড়াও প্লাস্টিকের খাবারের বাক্স, চামচ, প্লেট, প্যাকেটজাত খাবার এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকও মাইক্রোপ্লাস্টিকের বড় উৎস। প্রতিদিনের জীবনে আমরা না বুঝেই এই ক্ষতিকর কণাগুলির সংস্পর্শে আসছি। তবে কিছু সহজ অভ্যাস বদলালে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এক্ষেত্রে প্রতিদিনের ছোট সচেতন সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। যার জন্য বদলে বাড়িতে ফিল্টার করা কলের জল ব্যবহার করা, কাচের বোতল বা স্টিলের পাত্রে জল রাখা, প্লাস্টিকের খাবারের পাত্র কম ব্যবহার করা-এই ছোট পরিবর্তনগুলো বড় উপকার করতে পারে। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলা এবং পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং বেছে নেওয়ার পরামর্শও দেন বিশেষজ্ঞরা।
