অনেকেই আছেন, যাঁরা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দুধ দিয়ে এক কাপ ঘন চা খেতে পছন্দ করেন। কারও আবার ব্ল্যাক টি ছাড়া দিন শুরু হয় না। আবার কেউ কেউ দিনের শুরুটা করেন ব্ল্যাক কফি দিয়ে। দুধ-চা হোক বা কফি, এই দু’টি পানীয়ই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই দুই পানীয়ের ভক্ত। তবে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এই নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ চায়ের তুলনায় কফিকে বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করেন, আবার অনেকেই হার্বাল চাকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে থাকেন। তবু সাম্প্রতিক সময়ে বহু বিশেষজ্ঞই চায়ের তুলনায় ব্ল্যাক কফিকেই বেশি ভাল বিকল্প বলে মনে করছেন। জেনে নেওয়া যাক, কেন চায়ের তুলনায় ব্ল্যাক কফি বেশি উপকারী এবং এটি শরীরের কী কী উপকার করতে পারে।
সকালে উঠে চা বা ব্ল্যাক কফির মধ্যে যেটাই পান করুন না কেন, এই দুই পানীয়ের প্রকৃত পার্থক্য জানা জরুরি। কারণ কোনটি আপনার শরীরের জন্য বেশি উপযোগী, তা না জানলে ভবিষ্যতে সমস্যাও হতে পারে। আসলে চা ও ব্ল্যাক কফির মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল ক্যাফেইনের মাত্রা।
এক কাপ ব্ল্যাক কফিতে প্রায় ৯০–১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, যেখানে একই পরিমাণ ব্ল্যাক টিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ মাত্র ২৫–৫০ মিলিগ্রাম। এই অতিরিক্ত ক্যাফেইনের কারণেই ব্ল্যাক কফি বেশি এনার্জি জোগাতে সক্ষম।
দ্রুত শক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়
ব্ল্যাক কফি পান করলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়। ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে দ্রুত শক্তি জোগায়। ফলে মনোযোগ, একাগ্রতা ও কাজ করার ক্ষমতা বাড়ে। সকালে অফিসে যাওয়া বা পড়াশোনার সময় ব্ল্যাক কফি পান করলে শরীর ও মন দু’টিই বেশি চনমনে থাকে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য ব্ল্যাক কফি একটি ভাল বিকল্প। এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। চিনি বা দুধ ছাড়া কফি পান করলে শরীরের মেটাবলিজম বাড়ে এবং ফ্যাট বার্ন করার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। অন্য দিকে, চায়ে সাধারণত দুধ ও চিনি যোগ করা হয়, যা ক্যালোরি বাড়িয়ে দেয়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপকারিতা
ব্ল্যাক কফিতে পলিফেনল ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এগুলি শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। চায়েও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, তবে কফিতে থাকা উপাদানগুলি তুলনামূলকভাবে বেশি বৈচিত্র্যময়।
স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী
নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান করলে স্মৃতিশক্তি ভাল থাকে, এমনটাই জানাচ্ছে একাধিক গবেষণা। এটি অ্যালঝাইমার ও পার্কিনসনের মতো স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। চা-ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী, তবে ব্ল্যাক কফির প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে বেশি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়
যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য ব্ল্যাক কফি বেশ উপকারী। ব্যায়ামের আগে ব্ল্যাক কফি পান করলে শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বাড়ে, যার ফলে শক্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এতে দীর্ঘ সময় ও আরও কার্যকরভাবে ব্যায়াম করা সম্ভব হয়।
স্বাস্থ্যকরভাবে ব্ল্যাক কফি পান করবেন কীভাবে?
আসল কফি বিন থেকে তৈরি ব্ল্যাক কফিই সবচেয়ে ভাল। ফ্রেঞ্চ প্রেস, ড্রিপ বা পোর-ওভার পদ্ধতিতে কফি বানাতে পারেন। চিনি, ক্রীমার বা কৃত্রিম ফ্লেভার না মেশানোই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। স্বাদ বাড়াতে অল্প দারচিনি যোগ করা যেতে পারে।
