প্রকৃতির নিয়মে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়বে, এই ধারণাকে কার্যত ভুল প্রমাণ করেছেন সিঙ্গাপুরের জনপ্রিয় ফটোগ্রাফার ও ইনফ্লুয়েন্সার চুয়ান্ডো ট্যান। বয়স তাঁর ৫৯ বছর, অথচ চেহারা দেখলে অনেকেই তা বিশ্বাস করতে পারেন না। তিনি যেন ২০–২৫ বছরের তরুণ! আর তাঁর অবিশ্বাস্য চেহারার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রে চুয়ান্ডো।

যেখানে আজকের দিনে অনেকেই যৌবন ধরে রাখতে কসমেটিক সার্জারি, বোটক্স বা দামি ট্রিটমেন্টের উপর ভরসা করেন, সেখানে চুয়ান্ডো ট্যান একেবারেই আলাদা পথে হাঁটেন। তাঁর দাবি, তারুণ্য ধরে রাখার পেছনে কোনও শর্টকাট নেই, বরং রয়েছে শুধুই নিয়মিত অভ্যাস ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চুয়ান্ডো বলেন,“বয়স যতই বাড়ুক, নিজের মধ্যে সেই আকর্ষণ ধরে রাখা জরুরি। সেটা অন্যদের জন্য নয়, নিজের জন্য। আমি যখন ৫১ বছরে ভাইরাল হই, তখনও আমার জীবনে বিশেষ কিছু বদলায়নি। আমি যেমন ছিলাম, তেমনই জীবন উপভোগ করছিলাম।”


অনেকেই মনে করেন, তাঁর এই বয়সেও এত তরুণ দেখানোর পেছনে নিশ্চয়ই কোনও কসমেটিক পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু চুয়ান্ডোর স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি কখনও কোনও কৃত্রিম সৌন্দর্যচর্চার সাহায্য নেননি। বরং তাঁর মতে, শরীর গঠনের প্রায় ৭০ শতাংশ নির্ভর করে খাবারের উপর।


চুয়ান্ডো বিশ্বাস করেন, স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাবারই সুস্থ শরীরের মূল চাবিকাঠি। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত সাঁতার কাটেন এবং শরীরের শক্তি বাড়ানোর জন্য স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করেন। তাঁর রুটিনে ব্যায়াম কখনও বাদ যায় না। শুধু তাই নয়, ঘুমের ক্ষেত্রেও তিনি ভীষণই শৃঙ্খলাবদ্ধ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া তাঁর অভ্যাস। তিনি কফি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন, কারণ তাঁর মতে, এটি ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে।


চুয়ান্ডোর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হল, প্রচুর জল পান করা। তিনি মনে করেন, শরীরকে ভিতর থেকে সতেজ রাখতে জলের কোনও বিকল্প নেই। অতিরিক্ত বিলাসিতা নয়, বরং সহজ, ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই তাঁর তারুণ্যের আসল রহস্য।
চুয়ান্ডো ট্যান যেন প্রমাণ করে দিয়েছেন, যৌবন ধরে রাখতে টাকা নয়, দরকার ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার মানসিকতা।