মৃত্যু জীবনের এক কঠিন কিন্তু ধ্রুব সত্য। একজন মানুষ যখন জীবনের একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যান, তখন শরীর ধীরে ধীরে কিছু বিশেষ সংকেত দিতে শুরু করে।
চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়। এই লক্ষণগুলো জানলে পরিবারের মানুষ কিছুটা মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারেন এবং রোগীর পাশে আরও ভালভাবে থাকতে পারেন।
প্রথম লক্ষণ হল শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিবর্তন। মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে শ্বাস নেওয়া ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে যায়।
কখনও খুব ধীরে শ্বাস চলে, আবার কখনও কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে হয়। তারপর আবার শ্বাস শুরু হয়।
অনেক সময় গলার মধ্যে জমে থাকা লালা বা কফের কারণে অদ্ভুত শব্দও শোনা যায়। এটিকে অনেকেই 'ডেথ র্যাটল'বলে চেনেন। শুনতে 'অদ্ভুত' লাগলেও এটি সবসময় রোগীর কষ্টের কারণ হয় না।
দ্বিতীয় লক্ষণ হল শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং ত্বকের রং বদলে যাওয়া। মৃত্যুর আগে শরীরে রক্ত চলাচল কমতে শুরু করে। এর ফলে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। ত্বক ফ্যাকাশে, নীলচে বা দাগ দাগ দেখাতে পারে।
বিশেষ করে হাত, পা, আঙুল এবং ঠোঁটে এই পরিবর্তন বেশি বোঝা যায়। অনেক সময় পরিবার এই পরিবর্তন দেখে বুঝতে পারেন যে শরীর ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসছে।
তৃতীয় লক্ষণ হল সাড়া কমে যাওয়া। মানুষটি বেশি ঘুমাতে থাকেন, কথা বলা কমে যায় এবং আশপাশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় তিনি কারও ডাকেও সাড়া দেন না।
মৃত্যু কাছাকাছি এলে খাওয়া-দাওয়া কমে যায়, জল খেতেও অসুবিধা হয়। গিলতে সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কারণ তখন শরীর আর আগের মতো কাজ করতে পারে না।
এছাড়াও অনেক সময় প্রস্রাব কমে যায়, দুর্বলতা এতটাই বাড়ে যে বিছানা থেকে ওঠা সম্ভব হয় না। শরীর পুরোপুরি বিশ্রামের দিকে চলে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই সময়ে রোগীর পাশে শান্তভাবে থাকা খুব জরুরি। জোর করে খাওয়ানো বা অযথা ভয় পাওয়ার বদলে ভালবাসা, শান্তভাবে কথা এবং পাশে থাকার অনুভূতি দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মনে রাখতে হবে, সব মানুষের ক্ষেত্রে একই লক্ষণ একভাবে দেখা যায় না। কারও ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ বেশি স্পষ্ট হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে কম দেখা যায়।















