অনেকেই মনে করেন শুধু দিনের প্রচণ্ড রোদ আর গরমই শরীরের জন্য বিপজ্জনক। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের গরমও সমানভাবে ক্ষতিকর, অনেক সময় আরও বেশি বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে যখন গরমের সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বা ভ্যাপসাভাব বেশি থাকে, তখন সমস্যা আরও বাড়ে।


রাত হল শরীরের বিশ্রামের সময়। এই সময় আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়, হার্ট ধীরে কাজ করে এবং সারাদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে শরীর নিজেকে ঠিক করে। কিন্তু যদি রাতেও তাপমাত্রা বেশি থাকে, তাহলে শরীর সেই সুযোগ পায় না। শরীরের ভেতরের তাপ কমতে পারে না, ফলে ঘুম ঠিকমতো হয় না। 


ঘুমের সময় শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু বাতাসে যদি আর্দ্রতা বেশি থাকে, তাহলে ঘাম সহজে শুকোতে পারে না। ফলে শরীর আরও গরম অনুভব করে। এতে অস্বস্তি, ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, বিরক্তি, ক্লান্তি এমনকি হিট স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যাও হতে পারে।
শহরে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। কারণ কংক্রিটের রাস্তা, বড় বড় বিল্ডিং এবং কম গাছপালার জন্য দিনের গরম রাতেও আটকে থাকে। এই কারণেই শহরে রাতের গরম বেশি লাগে। একে বিশেষজ্ঞরা 'আরবান হিট আইল্যান্ড' প্রভাব বলেন। 


বয়স্ক মানুষ, ছোট শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং যাদের হার্ট, ফুসফুস, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ আছে, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ তাদের শরীর অতিরিক্ত গরম সহজে সহ্য করতে পারে না।


এই গরম থেকে বাঁচতে কিছু সহজ নিয়ম মানা দরকার। যেমন সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করা, রাতে ঘর হাওয়া চলাচলযোগ্য রাখা, হালকা সুতির পোশাক পরা এবং খুব ভারী খাবার না খাওয়া। প্রয়োজনে ফ্যান, কুলার বা এসি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘুমানোর আগে হালকা ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ-হাত ধুয়ে নিলেও আরাম মেলে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রাতের তাপমাত্রাও বাড়ছে। তাই শুধু দিনের গরম নয়, রাতের গরমকেও গুরুত্ব দিতে হবে। শরীর যদি রাতে ঠিকভাবে বিশ্রাম না পায়, তাহলে পরের দিনের গরম আরও বেশি ক্ষতি করতে পারে। তাই গরমের সময় রাতে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়াও খুব জরুরি।