ঘি মানেই ওজন বাড়ার ভয়, এক সময় অনেকেই এমনটা মনে করতেন। সাম্প্রতিককালে বদলেছে সেই ধারণা। বলিউড হোক কিংবা ফিটনেস দুনিয়ার অনেক সেলিব্রেটিকে এখন নিয়মিত ঘি খেতে দেখা যায়। কেউ সকালে খালি পেটে, কারওর আবার খাবারের সঙ্গে অল্প করে ঘি খাওয়ার অভ্যাস। কিন্তু হঠাৎ ঘি কেন এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে? আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

চিকিৎসকের মতে, ঘি শুধু স্বাদ বাড়ানোর উপাদান নয়, বরং পেটের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। ঘি মূলত বিশুদ্ধ মাখন থেকে তৈরি হয় এবং এতে থাকে ভাল মানের ফ্যাট, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। এই ফ্যাট হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং অন্ত্রের ভিতরের আস্তরণকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঘি অন্ত্রের দেওয়ালকে পুষ্ট করে। এর ফলে খাবার সহজে হজম হয় এবং গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা অনেকটাই কমে। যাদের নিয়মিত হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঘি উপকারী হতে পারে।

এছাড়াও ঘি খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে, ফলে বারবার খিদে পায় না। এতে থাকা ভাল ফ্যাট ধীরে ধীরে শক্তিতে পরিণত হয়, যা সারাদিন কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জি জোগায়। এই কারণেই অনেক সেলিব্রেটি ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ ঘি-কে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখছেন।

ঘি অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। ফলে সামগ্রিকভাবে গাট হেলথ ভাল থাকে এবং শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি সহজে গ্রহণ করতে পারে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে ঘি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কিছুটা বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা, ঘি যতই উপকারী হোক, অতিরিক্ত খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। দিনে সাধারণত এক চা চামচ ঘি যথেষ্ট। বেশি খেলে ক্যালোরি ও ফ্যাটের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা ওজন বৃদ্ধি বা কোলেস্টেরলের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে যাদের হার্টের সমস্যা, উচ্চ কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ঘি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, ঘি তখনই উপকারী, যখন তা পরিমিতভাবে ও সচেতনভাবে খাওয়া হয়।