শীত এলেই শরীরের অতিরিক্ত শক্তি ও পুষ্টির প্রয়োজন হয়। ঠান্ডার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং অলসতাও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ডিম এমন একটি খাদ্য, যা অল্পেই প্রচুর পুষ্টি জোগায়। এই কারণেই শীতকালে ডিমকে ‘সুপারফুড’ বলা হয়। এটি শুধু শরীরকে উষ্ণ রাখে না, বরং শক্তি, স্ট্যামিনা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।
শীতকালে ডিম খাওয়ার উপকারিতা
শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে
আয়ুষ চিকিৎসক ডা. রাজকুমারের মতে, শীতকালে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। ডিমে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন শরীরে উষ্ণতা তৈরি করতে সাহায্য করে। ডিম খেলে শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় থাকে, ফলে ঠান্ডার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হয়। বিশেষ করে সকালে জলখাবারে ডিম খেলে সারাদিন শরীরে উষ্ণতা বজায় থাকে।
অতিরিক্ত শক্তি জোগায়
শীতে শরীরের বেশি শক্তি ও তাপের প্রয়োজন হয়। এই সময় ডিমকে একটি আদর্শ সুপারফুড হিসেবে ধরা হয়। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিগুণে ভরপুর।
পেশি শক্তিশালী করে
ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস। শীতকালে অনেক সময় পেশি দুর্বল লাগে এবং শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ডিমে থাকা প্রোটিন পেশি মজবুত করে এবং শরীরের ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাঁরা শারীরিক পরিশ্রম করেন বা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের জন্য ডিম অত্যন্ত উপকারী।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
শীতকালে সর্দি-কাশি ও ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডিমে রয়েছে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ এবং সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত ডিম খেলে শরীর রোগের সঙ্গে লড়াই করতে আরও সক্ষম হয় এবং সংক্রমণের আশঙ্কা কমে।
দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে
শীতকালে ঘনঘন খিদে পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। ডিমে প্রোটিন ও ফ্যাট দুই-ই থাকায় এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাঁদের জন্য ডিম একটি ভাল বিকল্প। কারণ কম ক্যালোরিতেই এটি বেশি পুষ্টি দেয়।
ক্লান্তি দূর করে ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়
ঠান্ডার কারণে অনেক সময় শরীর অবসন্ন লাগে এবং কাজের ইচ্ছা কমে যায়। ডিম শরীরকে দ্রুত ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তি জোগায়। এতে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শরীরকে সক্রিয় রাখে। সকালে ডিম খেলে সারাদিন ক্লান্তি কম অনুভূত হয় এবং মনোযোগও ভাল থাকে।
ত্বক ও চুলের যত্নে সহায়ক
শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুল প্রাণহীন দেখাতে শুরু করে। ডিমে থাকা বায়োটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি চুলকে মজবুত করে এবং চুল পড়ার সমস্যাও কিছুটা কমাতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে ডিম খেলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকে।
