বেঙ্গালুরু থেকে বারাণসী যাওয়ার পথে একটি ইন্ডিগো বিমানে হঠাৎই চরম আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। উড়ানের মাঝপথে এক যাত্রী আচমকাই বিমানের এমার্জেন্সি এক্সিট দরজা খোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। শুধু একবার নয়, তিনি নাকি দু’বার এই চেষ্টা করেন। এতে বিমানের ভেতরে থাকা অন্য যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


চোখের সামনে এমন ঘটনা দেখে কেবিন ক্রুরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেন। তাঁরা দ্রুত ওই যাত্রীকে থামানোর চেষ্টা করেন। তখন বিমানের কিছু যাত্রীও এগিয়ে এসে সাহায্য করেন। সকলে মিলে ওই ব্যক্তিকে ধরে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করে, যাতে তিনি আর কোনও বিপজ্জনক কাজ করতে না পারেন।


জানা গিয়েছে, ওই যাত্রীর আচরণ শুরু থেকেই কিছুটা অস্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ করেই তিনি উঠে দাঁড়িয়ে এমার্জেন্সি দরজার দিকে দৌড়ে যান এবং তা খোলার চেষ্টা করেন। প্রথমবার ক্রুরা তাঁকে সামাল দিলেও কিছুক্ষণ পর আবার একই কাজ করার চেষ্টা করেন তিনি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।


এই অবস্থায় কেবিন ক্রুরা পাইলটকে পুরো বিষয়টি জানান। পাইলট সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিমানবন্দরে আগাম খবর পাঠান, যাতে অবতরণের পর নিরাপত্তারক্ষীরা প্রস্তুত থাকেন।
অবশেষে বিমানটি বারাণসীতে নিরাপদে নামলে নিরাপত্তাকর্মীরা ওই যাত্রীকে আটক করেন। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনার পর ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি নাকি ‘ভূতে পেয়েছিলেন’, আর সেই কারণেই তিনি এমন আচরণ করেছেন।


এই দাবি শুনে স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই অবাক হয়েছেন। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আচরণের পেছনে মানসিক সমস্যা, ভয় বা অন্য কোনও শারীরিক-মানসিক কারণ থাকতে পারে।


বিমানে এই ধরনের ঘটনা খুবই গুরুতর। কারণ, মাঝ আকাশে দরজা খোলার চেষ্টা করলে তা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতি এড়াতে যাত্রীদের সতর্ক থাকা এবং বিমান সংস্থার আরও কড়া নজরদারি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।