আসছি আসছি করে এসেই পড়ল আরও একটা বছর৷ আর নতুন বছর মানেই কত স্বপ্ন, নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার হরেক প্ল্যান, হাজারখানেক নতুন শপথ। বছরের শুরুতে বাহারি নিউইয়ার রিজোলিউশন নিয়ে চলতে থাকে কত রকম আলোচনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কি আর পূর্ণ হয়! পুরনো কিছু অভ্যাস অজান্তেই সঙ্গী হয় নতুন বছরেও। তবুও বছর শেষ হলেই মনে হয়, 'থোড় বড়ি খাড়া' জীবনে কিছুই যে বদলাল না! তবুও নিজেকে বদলে ফেলার চেষ্টায় হাল ছাড়ে না মন। গতবছর যা যা ভুল হয়েছে, যেখানে যেখানে কম পড়েছে, ২০২৬ সালে বরং সেই সব ভুল শুধরে সামনের দিকে চলুন। কীভাবে? জেনে নেওয়া যাক।
লক্ষ্যহীন জীবনযাপন: 'এবার ভাল করব', 'এবার জীবনটা বদলাব...' কিন্তু কীভাবে বদলাব? কোন দিকটায় উন্নতি করব? সেবিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে পরিশ্রমের ফল মিলবে না! অফিসের কাজ, পড়াশোনা থেকে স্বাস্থ্য, পরিবার-বছরের শুরুতেই নিজের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাদা আলাদা ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন। লক্ষ্য যেন বা
কাজ ফেলে রাখবেন নাঃ আগের রাতেই করে রাখুন পরের দিন সকালে উঠে আপনি কী কী করবেন, সেই সব 'টু ডু লিস্ট'। সব কিছু লিখে রাখার জন্য একটা ডায়েরি রাখতে পারেন। কাল করব ভেবে কোনও কাজই ফেলে রাখলেই তা দেরি হয়ে যাবে। সব কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা না করে, একটার পর একটা শেষ করুন। আজকের কাজ আজই শেষ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
স্বাস্থ্যের অবহেলা নয়: আমরা অনেক সময় ভাবি, এখন কাজটা আগে করি, পরে শরীরের কথা ভাবব। কিন্তু শরীর খারাপ হলে কোনও কাজই ঠিকভাবে করা যায় না। অনিয়মিত খাওয়া, কম ঘুম, সারাদিন মোবাইল বা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকা- আজকাল এসব অভ্যাস শরীর আর মনের উপর বড় প্রভাব ফেলে। নতুন বছরে স্বাস্থ্যকে আর অবহেলা নয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল খান, সময়মতো ঘুমান, আর অন্তত ২০–৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম-এই ধরনের ছোট অভ্যাসই জীবনে বড় পরিবর্তন আনে।
নেগেটিভ চিন্তাকে বিদায়: নেগেটিভ চিন্তা আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। নিজের প্রতি বিশ্বাস না রাখা, সবসময় খারাপ দিকটাই ভাবা-এসব মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। আবার অনেক সময় অজান্তে আমাদের মনোবল ভাঙার নেপথ্যে থাকে আশপাশের মানুষও। তাই নিজের চিন্তাকে গুরুত্ব দিন। প্রয়োজন হলে নেতিবাচক মানুষ থেকে দূরত্ব রাখুন। পজিটিভ কথা, ভাল বই বা অনুপ্রেরণামূলক লেখা পড়ার অভ্যাস করুন।
পাসওয়ার্ড শক্ত করুনঃ বর্তমান যুগে ব্যাঙ্কিং থেকে সমাজমাধ্যম, সবেই পাসওয়ার্ডের ছড়াছড়ি। তাই দুর্বল পাসওয়ার্ড জীবনকে আক্ষরিক অর্থেই দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। ভুল করেও ব্যাঙ্কিং, কেনাকাটা, সমাজমাধ্যম এবং ই-মেইলে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না।
আর্থিক পরিকল্পনার অভাব: গোটা বছর ধরে বেহিসাবি খরচ আর বছর শেষে মাথায় হাত। মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে এ যেন চেনা ছবি। তাই মাসের শুরুতেই আয়-ব্যয়ের হিসেব করুন। অল্প হলেও সেভিংস আলাদা রাখুন। ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা থাকলে মন অনেকটাই হালকা থাকে।
নিজের জন্য সময় না রাখা: কাজ, পরিবার, দায়িত্ব-সব সামলাতে গিয়ে নিজের জন্য সময় পান না তো! এবছর বরং আগে নিজেকে গুরুত্ব দিন। প্রতিদিন কিছুটা সময় শুধু নিজের জন্য রাখুন। গান শোনা, বই পড়া কিংবা কখনও কিছু না করে চুপচাপ বসে নিজের সঙ্গে সময় কাটান কিংবা পছন্দ মতো কাজ করুন।
অতীতের ভুল আঁকড়ে ধরা: পুরনো ভুল, ব্যর্থতা বা কষ্ট বারবার মনে করলে সামনে এগোনো কঠিন হয়। নতুন বছরেও যদি পুরনো আঘাত বয়ে বেড়ান, তাহলে নতুন সুযোগ কাজে লাগাবেন কীভাবে! বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিন, নিজেকে দোষারোপ করে লাভ নেই। নতুন বছর মানেই নতুন সুযোগ।
তাহলে নতুন বছর শুধু শুভেচ্ছা আর প্রতিজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ছোট ছোট ভুল শুধরে নিলেই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করবে জীবন।
