কলমের টিকটিক শব্দ, পাশের মানুষের জোরে শ্বাস নেওয়া কিংবা কারওর খাবার চিবোতে চিবোতে আওয়াজ-এই সব শব্দে কি আপনার অস্বস্তি, রাগ বা বিরক্তি চরমে পৌঁছে যায়? যদি তাই হয়, তবে আপনি একা নন। চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে থাকতে পারে এক বিশেষ সমস্যা। চিকিৎসা পরিভাষায় যার নাম 'মিসোফোনিয়া'।
মিসোফোনিয়া ঠিক কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও সাধারণ বিরক্তি বা খিটখিটে মনের সমস্যা নয়, বরং মানসিক ও স্নায়বিক অবস্থা, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ শুনলেই মস্তিষ্ক অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। এক্ষেত্রে কোন শব্দে বেশি সমস্যা হয় চিকিৎসকেরা বলছেন, মিসোফোনিয়ায় ভুক্তভোগী মানুষদের সাধারণত যে শব্দগুলো সহ্য হয় না, সেগুলি হল, কলমের টিকটিক বা ক্লিক শব্দ, জোরে বা ভারী শ্বাস নেওয়ার আওয়াজ, চুইংগাম বা খাবার চিবোনোর শব্দ, ঠোঁট চাটার বা নখ কামড়ানোর শব্দ। এই শব্দগুলি শুনলেই হঠাৎ রাগ, অস্থিরতা, ভয় কিংবা নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সরে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা তৈরি হয়।
কেন হয় এই সমস্যা? চিকিৎসকদের মতে, মিসোফোনিয়ার সঙ্গে কানের কোনও সমস্যা নেই। আসলে সমস্যাটি হয় মস্তিষ্কে। নির্দিষ্ট কিছু শব্দ মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে খুব বেশি উত্তেজিত করে তোলে। ফলে শরীর সেই শব্দকে বিপদ হিসেবে ধরে নেয় এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এর ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা বা তীব্র রাগ দেখা দিতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনে কী প্রভাব পড়ে? এই সমস্যার কারণে অনেকে অফিস বা ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না, বাস, ট্রেন বা ভিড় এড়িয়ে চলতে শুরু করেন, কাছের মানুষের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন, ধীরে ধীরে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং সামাজিক দূরত্ব বাড়তে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার? যদি খেয়াল করেন কিছু শব্দে আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, শব্দ এড়াতে আপনি বারবার জায়গা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন, আপনার কাজ বা সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাহলে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
এই সমস্যার চিকিৎসা বা সমাধান কী? চিকিৎসকদের মতে, মিসোফোনিয়ার কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে কাউন্সেলিং, কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (সিবিটি), সাউন্ড থেরাপি, স্ট্রেস কমানোর অভ্যাস- এই পদ্ধতিগুলো অনেক ক্ষেত্রে উপকার দেয়। কেউ কেউ হেডফোন বা হোয়াইট নয়েজ ব্যবহার করেও স্বস্তি পান।
