আজকাল ঘরে-বাইরে সর্বত্রই এলইডি লাইটের রমরমা। এই বিশেষ ধরনের লাইটগুলির দাম যেমন কম, তেমন চলেও বহুদিন। উপরন্তু আলোও হয় অনেক বেশি। তাই দিন দিন বাড়ছে এই লাইটের জনপ্রিয়তা। কিন্তু এই এলইডি লাইটই নাকি শরীরের জন্য ক্ষতিকর? সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। 

লাইট এমিটিং ডিওডেডস বা এল এল ই ডি লাইট অ্যালুমিনিয়াম গ্যালিয়াম আর্সেনাইড নামে বিশেষ এক ধরনের ক্ষতিকর উপাদান বা টক্সিন দিয়ে তৈরি হয়। যা মানব শরীরের জন্য ভাল নয় বলে গবেষণায় দেখা গিয়েছে। একাধিক প্রাণীর উপর এই টক্সিক উপাদানের প্রয়োগ করে যে ফলাফল পাওয়া গেছে তা বেশ ভয়ানক। দেখা গেছে দীর্ঘদিন ধরে এই বিশেষ ধরনের টক্সিক উপাদানের সংস্পর্শে এলে চোখ তো বটেই সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়। 

 

নিয়মিত এলইডি লাইট ব্যবহার করলে কী কী ক্ষতি হতে পারে


* চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকরঃ বিশেষজ্ঞদের মতে, এলইডি লাইট থেকে নির্গত নীল আলো রেটিনার ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘ সময় এই আলোয় থাকার ফলে চোখে শুষ্কতা, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, এমনকী দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

আরও পড়ুনঃ রোজ স্নান করলে হতে পারে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি! সত্যি কি তাই? গবেষণায় উঠে এল চমকে দেওয়া তথ্য

* ঘুমের সমস্যা বাড়ায়ঃ এলইডি লাইটের নীল আলো শরীরের মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এই হরমোন ঘুম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে রাতে মোবাইল, টিভি বা উজ্জ্বল এলইডি আলোয় বেশি সময় কাটালে অনিদ্রা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

* মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের ঝুঁকিঃ গবেষণায় দেখা গেছে, এলইডি লাইটের তীব্র ও ঝিকমিক করা আলো অনেকের মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়াতে পারে। অফিস বা স্কুলে দীর্ঘ সময় এই আলোয় কাজ করলে এর প্রভাব আরও বেশি হয়।

* মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবঃ অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো মানসিক অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং মেজাজ পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

কীভাবে রক্ষা পাবেন

* ঘর বা অফিসে এলইডি লাইট ব্যবহার করলে খুব উজ্জ্বল নয়, বরং উষ্ণ রঙের এলইডি ব্যবহার করুন।

* শোওয়াক অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি ও কম্পিউটার ব্যবহার কমান।

* চোখের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্লু-লাইট ফিল্টারযুক্ত চশমা ব্যবহার করতে পারেন। 

চিকিৎসকদের মতে, প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু তার সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। এলইডি লাইটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করলে এই ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। যদিও যে লাইটগুলি থেকে কম পরিমাণে নীল আভা বেরয় সেগুলি চোখ এবং শরীরের পক্ষে একেবারেই খারাপ নয়। অন্যদিকে যে ঘরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে না, শুধু লাইটের মাধ্যমেই আলোকিত থাকে, সে জায়গায় এল ই ডি লাইট ব্যবহার না করাই ভাল। কারণ সূর্যালোক অনেক ক্ষেত্রেই এল ই ডি লাইটের ক্ষতি করার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। রাতে যতটা সম্ভব এল ই ডি লাইট কম ব্যবহারের চেষ্টা করবেন। তাহলেই এর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমবে।