দুপুরে একটু ঘুমালে শরীরটা ফ্রেশ হয়ে যাবে, এমনটাই প্রচলিত ধারণা রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, ঘুম থেকে উঠেই মাথা ভার লাগছে, চোখ ঝিমঝিম করছে, কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। কেন এমন হয় জানেন? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আমাদের ঘুমের ধরনে।
ঘুম থেকে উঠে খারাপ লাগার মূল কারণ হল স্লিপ ইনর্শিয়া। সহজ ভাষায়, ঘুম ভাঙার পরও আমাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি জেগে উঠতে সময় নেয়। এই সময়টায় শরীর আর মন দুটোই কিছুটা ধীর হয়ে থাকে। ফলে মাথা কাজ করতে চায় না, মনোযোগ কমে যায়, এমনকী মেজাজও খারাপ হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমস্যাটা বেশি হয় যখন আমরা বেশি সময় ধরে ঘুমিয়ে ফেলি। যদি ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় ঘুমিয়ে পড়েন, তাহলে শরীর ধীরে ধীরে গভীর ঘুমের স্তরে ঢুকে যায়। এই গভীর ঘুমের মাঝখান থেকে হঠাৎ উঠে পড়লে শরীর তাল মেলাতে পারে না। তখনই সেই ভারী লাগা, ক্লান্তি বা ঝিমুনি শুরু হয়।
এক্ষেত্রে আরও একটা বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। যা হল আমাদের শরীরের 'বডি ক্লক' বা সার্কাডিয়ান রিদম। দিনের নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী শরীর নিজে থেকেই ঠিক করে নেয় কখন ঘুম পাবে, কখন চাঙা থাকবে। যদি এই ছন্দের বাইরে গিয়ে ঘুমান যেমন সন্ধের দিকে বা বেশি দেরিতে তাহলে শরীর বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে ঘুম ভাঙার পর ভাল না লেগে উল্টো ক্লান্ত লাগে।
তাহলে কি দুপুরে ঘুমানো খারাপ? একেবারেই না। বরং ঠিকভাবে ঘুমালে উপকারই বেশি। ছোট সময়ের ঘুম, যাকে 'পাওয়ার ন্যাপ' বলা হয়, তা শরীর ও মস্তিষ্ক দুটোই রিফ্রেশ করে। ১০ থেকে ২০ মিনিটের ঘুম সবচেয়ে ভাল। এতে আপনি হালকা ঘুমেই থাকবেন, গভীর ঘুমে ঢুকবেন না—ফলে উঠেও সতেজ লাগবে।
সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। দুপুর ১টা থেকে ৩টের মধ্যে ঘুমানো সবচেয়ে ভাল। এই সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই একটু ক্লান্ত থাকে, তাই ছোট ঘুম কাজে দেয়। কিন্তু বিকেল বা সন্ধের দিকে ঘুমালে রাতের ঘুম নষ্ট হতে পারে।
আর যদি বারবার এমন হয় যে ঘুমিয়েও ভাল লাগছে না, তাহলে সেটা একটা সতর্কবার্তা হতে পারে। হয়তো আপনি রাতে ঠিকমতো ঘুমোচ্ছেন না, বা শরীর খুব বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞান বলছে, দুপুরের ঘুম ভাল, কিন্তু তারও নিয়ম আছে। কম সময়, ঠিক সময়ে ঘুমালে তবেই শরীর-মন সত্যিই ফ্রেশ হবে। কিছু সহজ টিপস মনে রাখুন। যেমন ১০–২০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না। অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমান।বিকেলের পর ঘুম এড়িয়ে চলুন। ঘুম থেকে উঠে একটু হাঁটাচলা করুন।
