কিডনি রোগ মানে শুধু শরীরের সমস্যা, এমন ধারণা এখন বদলাতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে,  যাঁরা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও অনেক বেশি। অর্থাৎ কিডনির রোগ হলে শুধু শারীরিক চিকিৎসা নয়, মানসিক যত্নও সমান জরুরি।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন কিডনি রোগে ভুক্তভোগী রোগীর মধ্যে অবসাদ, উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও হতাশা দেখা যায়। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত ডায়ালিসিস নেন বা কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন, তাঁদের জীবনে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। নিয়ম মেনে খাবার খাওয়া, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, বারবার হাসপাতালে যাওয়া-এসব কারণে মানসিক চাপ বাড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রায় এক-চতুর্থাংশ রোগী কোনও না কোনও মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হন। অনেক সময় রোগীরা নিজেদের কষ্ট বা দুশ্চিন্তার কথা খোলাখুলি বলেন না। ফলে সমস্যাটি ধরা পড়ে না। কিন্তু মানসিক অবসাদ বাড়লে তা শারীরিক সুস্থতার উপরও প্রভাব ফেলে। রোগী নিয়মিত ওষুধ খেতে অনীহা দেখাতে পারেন বা চিকিৎসার নিয়ম ঠিকমতো মানতে পারেন না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ দীর্ঘদিন থাকলে রক্তচাপ ও রক্তে সুগারের মাত্রাও বাড়তে পারে, যা কিডনি রোগকে আরও জটিল করে তোলে। তাই কিডনি চিকিৎসার পাশাপাশি কাউন্সেলিং বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে।

পরিবারের ভূমিকা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর সঙ্গে কথা বলা, মানসিকভাবে পাশে দাঁড়ানো এবং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি হালকা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, পছন্দের কাজ করা ও নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন, কিডনি রোগ মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। সঠিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও মানসিক সমর্থন থাকলে অনেকেই স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন। তবে মানসিক সমস্যাকে অবহেলা করলে চিকিৎসার ফলও কমে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে নতুন গবেষণা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, কিডনি সমস্যা থাকলে শুধু শরীর নয়, মনের দিকেও সমান নজর দেওয়া প্রয়োজন। সুস্থ থাকতে হলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।