অনেকেই ব্যস্ততার কারণে সকালে ব্রেকফাস্ট না খেয়ে দিন শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা, সকালে খাবার না খেলে শরীরের ক্ষতি হয়। তবে এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন হায়দ্রাবাদের নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার।
সম্প্রতি তিনি জানান, সকালের খাবা না খাওয়া সব সময় শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বিষয়টি নির্ভর করে একজন মানুষের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থার ওপর। যদি কেউ পরিকল্পিতভাবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করেন এবং দিনের বাকি সময়ে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খান, তাহলে সকালে না খেলেও বড় সমস্যা হয় না।
চিকিৎসকের মতে, শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালোরি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান যদি অন্য সময়ে পূরণ করা যায় এবং পর্যাপ্ত ঘুম হয়, তাহলে ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অনেকের ক্ষেত্রে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ বা বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখতে সাহায্যও করতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করেছেন, অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে যদি ব্রেকফাস্ট বাদ পড়ে, তাহলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন রাত জাগা, সকালে দেরিতে ওঠা, কাজের চাপে সময় না পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। এক্ষেত্রে অনেকেই পরে অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন এবং জাঙ্ক ফুড বা বেশি চিনি জাতীয় খাবার খান। এতে রক্তে শর্করার ওঠানামা হয়, ক্লান্তি বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস বা বিপাকজনিত ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এক্ষেত্রে শরীরে বিশেষ কোনও রোগ থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেমন ডায়াবেটিস, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী মহিলা এবং যারা সকালে শারীরিক পরিশ্রম করেন। এদের দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চিকিৎসকের স্পষ্ট বক্তব্য, সকলের জন্য এক নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কারও জন্য সকালে না খাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে, আবার কারও জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া শ্রেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হলে নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার এবং নির্দিষ্ট সময় মেনে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি। শুধু সকালের ব্রেকফাস্ট নয়, সারাদিনের খাদ্যতালিকাই আসল বিষয়।
