আকাশে পা আর মাটিতে মাথা। শীর্ষাসন (হেডস্ট্যান্ড) ভঙ্গিমায় হাত দু’টিও মাটি ছাড়িয়ে নমস্কারের মুদ্রায়। এই অবস্থাতেই “জটাটবী-গলজ্জল-প্রবাহ-পাবিত-স্থলে…” শিব-তাণ্ডব স্তোত্রপাঠ করছেন ৮ বছরের বালক। 

 কর্ণাটকের সিরসি শহরের এই বিস্ময়-বালক ওম এন-এর নাম এবার উঠল ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডস-এ। সংস্কৃতের সবচেয়ে কঠিন ছন্দ এই শিব-তাণ্ডব৷ মাত্র ৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে সম্পূর্ণ স্ত্রোত্র পাঠ করেছে এই শিশু৷ ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এই কীর্তি গড়ে ওম।

 মাথা নিচু হলে রক্তচাপ মুখের দিকে বেড়ে যায়, শ্বাস কঠিন হয়, ডায়াফ্রাম চাপ অনুভব করে— এই অবস্থায় দ্রুতগতিতে সংস্কৃত শ্লোক উচ্চারণ অসাধারণ প্রাণায়াম-দক্ষতা ও মনঃসংযোগ ছাড়া সম্ভব নয়। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি শব্দও আটকাচ্ছেনা, কোথাও ছন্দের গোলমাল নেই৷ 


শিব-তাণ্ডব স্তোত্র— পৌরাণিক রাবণের রচনা বলে কথিত। শিবের মহাজাগতিক নৃত্যের বর্ণনায় ভরা এই স্তোত্র লেখা ‘পঞ্চচামর ছন্দে’— যার ছন্দে আছে এক ঘোড়দৌড়ের গতি। দ্রুত উচ্চারণ, কঠিন সংস্কৃত শব্দবন্ধ, নিরবচ্ছিন্ন ছন্দ— প্রাপ্তবয়স্কদের পক্ষেও সঠিক উচ্চারণ ও শ্বাস-নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যায়। সেখানে আট বছরের শিশু মাথা নিচু অবস্থায় এমন অনর্গল বলে চলেছে যা দেখে তাজ্জব বিশ্ব৷ 

 শীর্ষাসন করাকালীন শুধুমাত্র দেওয়ালের সাপোর্ট নিয়ে সবথেকে কম সময়ে শিবতান্ডব পাঠের রেকর্ড গড়েছে ওম৷  নেট-দুনিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হতেই উচ্ছ্বাস। কেউ লিখেছেন— “অদ্ভুত!”, “বাল-যোগী!”, “শৃঙ্খলা, অনুশীলন, নিষ্ঠা— ব্রাভো!” তবে কয়েকজন প্রশ্নও তুলেছেন— শিশুদের উপর কীর্তির এমন চাপ কতটা স্বাস্থ্যকর?


বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পরিবারের যত্নে এমন সাধনা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হতে পারে— তবে চাপিয়ে দেওয়া নয়, ইচ্ছায় ও আনন্দে।