ভারতে এখন নতুন ট্রেন্ড— এআই শেখা। চাকরির বাজারে টিকে থাকতে, কেরিয়ারে এগিয়ে যেতে কিংবা ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ঝুঁকছেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই কোর্সের দিকে। কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, এমনকি স্কুল পড়ুয়ারাও এখন এআই শেখার দৌড়ে সামিল। 

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, ভারতে এআই কোর্সে ভর্তি হওয়ার হার গত কয়েক বছরে বিপুল বেড়েছে। অনলাইনে বর্তমানে ভারতের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ কোটি ৪২ লক্ষেরও বেশি। শুধু তাই নয়, প্রতি মিনিটে প্রায় তিনজন ভারতীয় জেনারেটিভ এআই কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন। ২০২৩ সালে যেখানে প্রতি চার মিনিটে একজন ভর্তি হতেন, সেখানে এখন এই সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন এআই আর ‘অতিরিক্ত দক্ষতা’ নয়, বরং চাকরির জন্য প্রায় বাধ্যতামূলক দক্ষতায় পরিণত হচ্ছে। যেমন একসময় কম্পিউটার বা এক্সেল জানা জরুরি ছিল, তেমনই আগামী দিনে এআই টুল ব্যবহার জানা কর্মক্ষেত্রে মৌলিক যোগ্যতা হয়ে উঠতে পারে। ফলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি কমার্স, ম্যানেজমেন্ট বা মানববিদ্যার পড়ুয়ারাও এআই শেখার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। 

ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এআই শিক্ষার উপর জোর দিতে শুরু করেছে। কোথাও সরকারি কর্মীদের জন্য এআই স্কিলিং কোর্স চালু হয়েছে, আবার কোথাও কলেজের পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলকভাবে এআই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি মিডিয়া, অ্যানিমেশন ও গেমিং সেক্টরের জন্য ১৫ হাজার এআই স্কলারশিপও ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। 

তবে প্রশ্ন উঠছে— এত এআই কোর্স কি সত্যিই চাকরি দিচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু সার্টিফিকেট নয়, বাস্তব দক্ষতা অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এআই অনেক কাজ সহজ করলেও মানুষের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতার বিকল্প হতে পারবে না।