আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতি বছর ৮ মার্চ পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনটি নারীদের সাফল্যকে সম্মান জানানোর দিন। সমাজ, রাজনীতি, বিজ্ঞান, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে নারীদের অবদান স্মরণ করা হয় এই দিনে। একই সঙ্গে লিঙ্গবৈষম্য দূর করার কথাও নতুন করে সামনে আসে। ২০২৬ সালের নারী দিবসের মূল ভাবনা, সব নারী ও কন্যা শিশুর অধিকার, ন্যায়বিচার ও সমতার দাবি।
মহাকাশ থেকে রাজনীতি, যুদ্ধ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কিংবা মিস ইউনিভার্স। যেদিকে তাকানো যায়, নারীদের সঙ্গে গর্বিত ভারত আমার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লয়। ফলে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে মাথায় রেখে এই দিনে স্মরণ করা হয় এমন কিছু ভারতীয় নারীকে, যাঁরা নিজেদের কাজ দিয়ে দেশকে গর্বিত করেছেন। নানা বাধা পেরিয়ে তাঁরা নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন।
বাচেন্দ্রী পাল সেই রকমই এক নাম। উত্তরাখণ্ডের গাড়ওয়ালের নাকুরি গ্রামের মেয়ে বাচেন্দ্রী হলেন একজন অসামান্য দক্ষ পর্বতারোহী। ১৯৮৪ সালের ২৩ মে তিনি প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন। অভিযানের সময় তুষারধসে শিবির ভেঙে গিয়েছিল। অনেকেই আহত হয়েছিলেন। তবু তিনি অভিযান চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত শিখরে পৌঁছেছিলেন। পাশাপাশি, ১৯৯৭ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে আট জন মহিলার দল নিয়ে তিনি ট্রান্স হিমালয় অভিযান করেন। এবং সাফল্য পান।
কল্পনা চাওলা ছিলেন ভারতের প্রথম নারী মহাকাশচারী। তাঁর জন্ম হরিয়ানার কর্নালে। নিজের প্রতিভা ও দক্ষতার কারণে নাসা তাঁকে ১৯৯৪ সালে নির্বাচন করে। পরে তিনি মহাকাশ অভিযানে অংশ নেন। তাঁর প্রথম মহাকাশ যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৭ সালের ১৯ নভেম্বরে। ২০০৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ভারতের মিসাইল উইম্যান টেসি থমাস। ১৯৬৩ সালে ভারতের কেরলের আলাপ্পুঝা শহরে জন্মেছিলেন তিনি। দেশের প্রথম মহিলা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি অগ্নি–৪ এবং অগ্নি–৫ মিসাইল প্রকল্পেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ভারতের প্রথম মহিলা আইপিএস অফিসার কিরণ বেদি। কিশোর বয়সে কিরণ বেদি ১৯৬৬ সালে জাতীয় জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে তিনি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপে বিভিন্ন শিরোপা জিতেছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি আইপিএস হিসেবে যোগদান করার পর দিল্লি, গোয়া, চন্ডীগড় ও মিজোরামে নিযুক্ত ছিলেন। তিহার জেলে বন্দিদের সংস্কারমূলক কাজের জন্য ১৯৯৪ সালে তিনি রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার পান। পরে তিনি পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নরও ছিলেন।
কিরণ মজুমদার। ১৯৫৩ সালে বেঙ্গালুরুতে জন্ম। একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি ১৯৭৮ সালে বেঙ্গালুরুতে বায়োকন সংস্থা শুরু করেছিলেন। অল্প মূলধন নিয়ে শুরু হলেও আজ সেই সংস্থা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত।
১৮৬৫ সালের ৩১ মার্চ জন্মান ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম আনন্দী গোপাল জোশি। তিনি আমেরিকায় গিয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। পরে ভারতে ফিরে চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হন।
শালিজা ধামি ভারতীয় বায়ুসেনার একজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক ছিলেন। ভারতের লুধিয়ানায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর উইং কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৯ সালের আগস্টে ফ্লাইট কমান্ডার হন। ভারতের প্রথম মহিলা অফিসার যিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে একটি ফ্রন্টলাইন কমব্যাট ইউনিটের নেতৃত্ব দেন।
মেরি কম ভারতের কিংবদন্তি বক্সার। তিনি ছয়বার বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তিনিই একমাত্র ভারতীয় মহিলা বক্সার যিনি ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক্সে ৫১ কেজি ফ্লাইওয়েট বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। তাঁর সাফল্য নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে।
সুস্মিতা সেন ১৯৯৪ সালে মিস ইউনিভার্স খেতাব জেতেন। ১৯৭৫ সালে হায়দরাবাদে তাঁর জন্ম। তিনিই প্রথম ভারতীয় নারী যিনি এই সম্মান অর্জন করেছিলেন। পরে তিনি ছবিতেও নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে সক্ষম হন।
সাইনা নেহওয়াল ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে তিনি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি অবসর ঘোষণা করেন।
