বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়া শুধুই শারীরিক চাহিদা নয়, এর সঙ্গে মনেরও যোগ রয়েছে। তাই তো পেটে খিদে না থাকলেও খাবার দেখলেই মনটা কেমন খাই খাই করে! যাকে চলতি কথায় বলে ‘চোখের খিদে’। বিশেষ করে মিষ্টি খাওয়ার প্রতি অনেকেরই ঝোঁক দেখা যায়। আপনারও কি শেষপাতে হোক বা হালকা খিদে কিংবা মন খারাপ হলেই সঙ্গী মিষ্টি? আসলে আধুনিক জীবনে প্রায় প্রতিদিনের খাবারে চিনি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকালের চা-কফি, ঠান্ডা পানীয়, মিষ্টি হোক কিংবা ডিনারের পর ডেজার্ট- প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা অনায়াসে চিনি খেয়ে থাকি। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের চাহিদার তুলনায় বেশি চিনি খাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর। অনেক সময় আমরা না বুঝেই বেশি চিনি খেয়ে ফেলি। আর তখন শরীর নিজেই কিছু সংকেত দিতে শুরু করে। সময় থাকতে সচেতন না হলে অতিরিক্ত চিনি খাওয়া ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্থূলতা এমনকী কিডনির সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই শরীরের সংকেতগুলোকে অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়। তাহলে কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন, জেনে নিন-
১. ঘন ঘন তৃষ্ণা ও প্রস্রাবঃ শরীরে অতিরিক্ত শর্করা জমলে কিডনিকে বেশি কাজ করতে হয় তা বের করার জন্য। এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় এবং সারাদিন অস্বাভাবিকভাবে পিপাসা পায়। যা হতে পারে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণও।
২. বার বার খিদে পাওয়াঃ চিনি শরীরে দ্রুত এনার্জি জোগায়, তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে, ফলে বার বার খিদে অনুভূত হয়। এই অবস্থায় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
আরও পড়ুনঃ প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করা এক প্যাকেট সিগারেট খাওয়ার সমান! ফুসফুসের ক্ষতির ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা গবেষণায়
৩. মনোযোগে ঘাটতিঃ রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠা-নামা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এর ফলে মাথায় কুয়াশার মতো ভাব হয়, মনোযোগ ধরে রাখা যায় না, কাজের দক্ষতাও কমে যায়।
৪. ত্বকে পরিবর্তনঃ অতিরিক্ত চিনির প্রভাবে শরীরে ইনসুলিন রেজিসট্যান্স তৈরি হতে পারে। এর ফলে গলার নিচে, বগলে বা বুকে কালো দাগ পড়া, ত্বকের রং পরিবর্তন, এমনকী ত্বকে ট্যান দেখা দিতে পারে। এগুলোও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
৫. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অলসতাঃ প্রথমে চিনি শরীরকে চাঙা করে তুললেও এর প্রভাব দ্রুত কমে যায়। ফলে শরীর ভেঙে পড়ার মতো ক্লান্তি, অলসতা এবং শক্তির ঘাটতি অনুভূত হয়।

চিনির আসক্তি কীভাবে কাটাবেন
* খাদ্যতালিকায় বেশি প্রোটিন ও ফাইবার রাখুন। যা ক্রেভিং নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি থাকবে।
* হাইড্রেটেড থাকুন। অনেক সময়ে জল তেষ্টা সুগার ক্রেভিং বলে ভুল হয়। তাই পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি।
* একবারে চিনি খাওয়া ছেড়ে দিলে শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। ধীরে ধীরে চিনি খাওয়া কমান।
চিকিৎসকদের মতে, যদি নিয়মিত এই লক্ষণগুলি দেখা যায়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে ফাস্টিং ইনসুলিন বা এইচবিএ১সি টেস্ট করা উচিত।
