অনেকে মনে করেন নিয়মিত ঘর পরিষ্কার রাখা মানে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর এক তথ্য। যাঁরা রোজ ঘর পরিষ্কার করেন, তাঁদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা ২০ বছর ধরে প্রতিদিন এক প্যাকেট সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর। নিঃসন্দেহে ঘর ঝকঝকে রাখার অভ্যাস ভাল। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে রোজ ঝাড়পোঁছ করলে অজান্তেই ভয়ঙ্কর ঝুঁকি মধ্যে পড়ে ফুসফুস। তাই সচেতন থেকে নিরাপদ উপায়ে ঘর পরিষ্কার করাই হতে পারে একমাত্র সমাধান।

গবেষণায় ঠিক কী দেখা গিয়েছে, বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে এবং আমেরিকান জার্নাল অফ রেসপিরেটরি অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনে প্রকাশিত এই গবেষণাটি ৬ হাজার জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর উপর নজর রেখে করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেসব মহিলা ঘরে বা পেশাগতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নর কাজ করেন তাঁদের ২০ বছর ধরে প্রতিদিন একটি প্যাকেট ধূমপানের সমান ফুসফুসের ক্ষতি হয়। 

আরও পড়ুনঃ নিছক ভুলে যাওয়া নাকি ডিমেনশিয়ার বিপদ, লক্ষণ দেখে কীভাবে বুঝবেন? কোন উপায়ে দূরে রাখবেন মস্তিষ্কের রোগ?

গবেষণা বলছে, নিয়মিত পরিষ্কারক অর্থাৎ ক্লিনিং এজেন্ট ব্যবহার করলে তাতে থাকা রাসায়নিক ধীরে ধীরে শ্বাসযন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষত মহিলারা যারা প্রতিদিন ঘর ঝাড়পোঁছ করেন বা জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করেন, তাঁদের ফুসফুসের ক্ষমতা দ্রুত কমতে থাকে। দীর্ঘ সময় এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসে প্রদাহ, অ্যাজমার ঝুঁকি এবং শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে পরিষ্কারক পণ্যগুলিতে থাকা রাসায়নিকগুলি দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসনালীতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ফুসফুসের কার্যক্ষমতার এই অবনতি এমন যে প্রতিদিন ২০ বছর ধরে সিগারেটের একটি পুরো প্যাকেট খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা যায়। অর্থাৎ, ধূমপান না করলেও নিয়মিত ঘর পরিষ্কারের কারণে শ্বাসযন্ত্রে ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়তে পারে। মজার বিষয় হল, পুরুষদের ক্ষেত্রে একই প্রভাব দেখা যায়নি। 

কেন এমন হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে প্রচলিত অনেক ক্লিনিং স্প্রে-তে অ্যামোনিয়া, ব্লিচ, ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড (ভিওসি) এবং শক্তিশালী রাসায়নিক থাকে। এগুলো নিয়মিত শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুসের টিস্যু নষ্ট হতে থাকে।


তাহলে কী করা উচিত? চিকিৎসকের পরামর্শ, যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান যেমন ভিনিগার, লেবু, বেকিং সোডা ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। ক্লিনিং স্প্রে ব্যবহারের সময় মাস্ক ব্যবহার ও জানালা খোলা রাখা উচিত। শিশু ও অ্যাজমার রোগীদের যে কোনও ধরনের রাসায়নিক থেকে দূরে রাখতে হবে।