আজকাল ওয়েবডেস্ক: আজ ষষ্ঠী, কাল সপ্তমী। শরতের আকাশ আর শিউলির গন্ধ জানান দিচ্ছে, উমার আগমন। আলমারিতে সাজানো নতুন পোশাক, বন্ধুদের সঙ্গে প্যান্ডেলে ঘোরার পরিকল্পনা আর জমিয়ে আড্ডা- পুজোর কয়েকটা দিনের জন্য মন একেবারে তৈরি। কিন্তু উৎসবের এই প্রস্তুতির মাঝেও যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঘাড়ের কালচে দাগ চোখে পড়ে, তবে সাজটাই যেন ফিকে হয়ে যায়। শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ বা স্টাইলিশ কুর্তির ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া এই দাগ আত্মবিশ্বাসে বড়সড় চিড় ধরাতে পারে।

তবে চিন্তার কারণ নেই। পার্লারে যাওয়ার সময় না পেলেও পুজোর আগেই ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত রোদের সংস্পর্শে আসা, হরমোনের সমস্যা, ঘাম জমে থাকা বা সঠিক যত্নের অভাবেই ঘাড়ে ও গলায় কালচে ছোপ পড়ে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘অ্যাকানথোসিস নিগ্রিকানস’। পুজোর বাকি দিনগুলোয় নিয়ম করে সামান্য যত্ন নিলেই এই দাগ অনেকটাই হালকা হয়ে যেতে পারে।

কীভাবে নেবেন যত্ন?
উৎসবের এই দিনগুলোয় ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে কয়েকটি ঘরোয়া প্যাকই হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী।
১। বেসন ও হলুদের যুগলবন্দি: রূপচর্চায় বেসনের ব্যবহার বহু পুরনো। ২ চামচ বেসনের সঙ্গে এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো এবং পরিমাণমতো টক দই মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি ঘাড়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বেসন ত্বক পরিষ্কার করে এবং দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।
২। আলুর রসের জাদু: আলু শুধু রান্নার উপকরণ নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্টও বটে। একটি মাঝারি মাপের আলু কুরে তার রস বের করে নিন। তুলোর সাহায্যে সেই রস ঘাড়ের কালচে অংশে লাগিয়ে রাখুন। মিনিট কুড়ি পর ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। আলুর মধ্যে থাকা ‘ক্যাটেকোলেজ’ নামক এনজাইম ত্বকের দাগছোপ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী।
৩। লেবু ও মধুর মিশ্রণ: লেবুর মধ্যে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের মরা কোষ দূর করে ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। এক চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি গলায় ও ঘাড়ে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তবে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁরা লেবুর রস সরাসরি ব্যবহার করার আগে ত্বকের অন্য কোনও অংশে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
৪। অ্যালোভেরা ও শসার শীতল পরশ: সারাদিনের প্যান্ডেল হপিংয়ের পর ত্বকের ক্লান্তি দূর করতে অ্যালোভেরা ও শসার প্যাক খুব উপকারী। অ্যালোভেরা জেল এবং শসার রস একসঙ্গে মিশিয়ে ঘাড়ে লাগান। এটি শুধু দাগই হালকা করবে না, রোদে পোড়া ত্বকে আরামও দেবে।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর পিঠ জিভ দিয়ে চেটে দেয় পুরুষ, স্ত্রী যদি পাল্টা লেহন করে, তবেই হয় মিলন! পৃথিবীর একমাত্র জীবিত ড্রাগন এরাই

তবে শুধু ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করলেই হবে না। বাইরে বেরোনোর আগে মুখে ও গলার পাশাপাশি ঘাড়েও সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না।

অনেক সময় ঘামের কারণেও দাগ গাঢ় হতে পারে। তাই বাইরে থেকে ফিরে ঘাড় ও গলা ভাল করে পরিষ্কার করুন।

স্নানের সময় লুফা বা স্ক্রাবার দিয়ে খুব জোরে ঘষবেন না, এতে দাগ ওঠার বদলে উল্টে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

যদি এই দাগ খুব বেশি গাঢ় হয় এবং ঘরোয়া উপায়ে না কমে, তবে পুজোর পর অবশ্যই একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কারণ এটি থাইরয়েড বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
পুজোর আর বাকি নেই। এখন থেকেই নিয়ম করে এই যত্নগুলো নিলে অষ্টমীর অঞ্জলি হোক বা নবমীর রাতের ঠাকুর দেখা- আপনার সাজে কোনও খুঁত থাকবে না।