অসমের মেয়ে রূপমণি গড়। স্বপ্ন তাঁর পাহাড়চূড়া স্পর্শ করা। কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবের মধ্যে বাধা দারিদ্র্যের পাহাড়৷ ইচ্ছা থাকলে যে পাহাড়প্রমাণ বাধাও অতিক্রম করা যায় তা দেখালেন রূপমণি গড়৷ গত ২১ মে, বৃহস্পতিবার বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এভারেস্টর চূড়ায় পা রাখলেন তিনি। অসম থেকে প্রথম মহিলা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন কর ইতিহাসের পাতায় নাম তুললেন লখিমপুর জেলার লীলাবাড়ির এই তরুণী।
রূপমণি ছিলেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) সর্ব-মহিলা এভারেস্ট অভিযান ২০২৬-এর সদস্য। এটিই আইটিবিপি-র প্রথম সম্পূর্ণ মহিলা-পরিচালিত আন্তর্জাতিক এভারেস্ট অভিযান। ১৪ সদস্যের এই দলে ছিলেন ১১ জন মহিলা পর্বতারোহী। নেপালের দিক থেকে সাউথ কল পথ ধরে শিখর ওঠে দলটি। গত ১৯ এপ্রিল নয়াদিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন অসমেরই আর এক কন্যা ভানিতা টিমুংপি৷
এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা অভাবের মধ্যে। বাবা জয়সিং গড় কৃষিকাজ করেন, মা কমলাবতী অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা। কলা বিভাগে স্নাতক রূপমণি ২০২০ সালে যোগ দেন আইটিবিপি-তে। ছোটবেলা থেকেই অ্যাডভেঞ্চার ও পর্বতারোহণের নেশা ছিল তাঁর মনে; সেই স্বপ্নকেই আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গিয়েছেন একটানা।
রূপমণিকে অভিনন্দন জানিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা সোশল মিডিয়ায় লেখেন, “অসমের কন্যা পৃথিবীর চূড়া ছুঁয়েছে। তাঁর এই ঐতিহাসিক কৃতিত্ব অসমের জন্য অপরিসীম গর্বের, আর তরুণ প্রজন্মের কাছে বড় স্বপ দেখার অনুপ্রেরণা।” রাজ্যের নানা মহল থেকেও বর্ষিত হয়েছে শুভেচ্ছা; অনেকেই একে বলেছেন কেবল অসম নয়, গোটা উত্তর-পূর্বের জন্য এই কৃতিত্ব গর্বের।















