ব্রাজিলের এক যুগল প্রমাণ করে দিলেন, ভালবাসাও কখনও কখনও বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৯৫ বার চুমু খেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তুলেছেন রেনাটো বায়মা গাইয়া এবং তাঁর সঙ্গী নাইয়ারা রবার্তা রিবেইরো দে মারিন্স। তাঁদের এই অভিনব কীর্তি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের সাও জোসে দোস কাম্পোস শহরে এই রেকর্ড গড়েন তাঁরা। তবে আন্তর্জাতিক কিসিং ডে উপলক্ষে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্প্রতি তাঁদের এই সাফল্যের কথা প্রকাশ্যে আনে। মাত্র আধ মিনিটে ১৯৫টি চুমু, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ছয়টিরও বেশি চুমু খেয়ে তাঁরা আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করেন। রেনাটো এবং নাইয়ারা দু'জনেই পেশায় চিকিৎসক।

 কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাঁরা সামনের সারিতে থেকে মানুষের সেবা করেছেন। প্রায় দেড় বছরের সম্পর্কের পর তাঁরা ঠিক করেন, একসঙ্গে এমন একটি বিশ্বরেকর্ড গড়বেন যা তাঁদের ভাল।বাসার স্মৃতি হয়ে থাকবে। রেনাটোর কথায়, তাঁরা বিশ্বাস করেন তাঁরা "বিশ্বের সেরা জুটি", আর সেই বিশ্বাস থেকেই এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন।

রেনাটোর কাছে অবশ্য বিশ্বরেকর্ড নতুন নয়। এর আগেও তিনি দ্রুততম সময়ে ১০টি বই সাজিয়ে ফেলে দেওয়া এবং পায়ের সর্বাধিক ঘূর্ণনের মতো একাধিক গিনেস রেকর্ড গড়েছেন। এই নতুন সাফল্যের মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, তিনিই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি গিনেস রেকর্ডধারী ব্রাজিলিয়ানদের একজন।
এতেই থেমে থাকতে চান না এই যুগল। তাঁদের পরবর্তী লক্ষ্য, এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি চুমুর রেকর্ড ভাঙা। বর্তমানে সেই রেকর্ড রয়েছে জাপানের এক দম্পতির দখলে, যাঁরা ৬০ সেকেন্ডে ২৭৭টি চুমু খেয়ে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

রেনাটোর কথায়, তাঁর লক্ষ্য শুধু রেকর্ড গড়া নয়, মানুষকে ইতিবাচক বার্তা দেওয়াও। তিনি নিজে একজন অস্থিমজ্জা দাতা এবং ADHD-তে আক্রান্ত। তাঁর বিশ্বাস, শারীরিক বা মানসিক কোনও সীমাবদ্ধতাই মানুষের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না। তাই এই রেকর্ড শুধু প্রেমের উদযাপন নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং ইতিবাচক মানসিকতারও এক অনন্য উদাহরণ।