অনেকেই মনে করেন, ফল মানেই শরীরের জন্য ভাল। কিন্তু সব ফল সবসময় বা সব মানুষের জন্য সমান উপকারী নয়, বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার রয়েছে, তাঁদের একটু বেশি সতর্ক থাকা দরকার।
কিছু ফল বেশি পরিমাণে খেলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। শুনতে অবাক লাগলেও বিষয়টা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। কারণ অনেক ফলে প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ বেশি থাকে। এই চিনি শরীরে বেশি গেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে, আর তার প্রভাব রক্তচাপের উপরও পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল অবশ্যই খেতে হবে, কিন্তু পরিমাণ বুঝে। যেমন আম, আঙুর, লিচুর মতো মিষ্টি ফলে চিনি বেশি থাকে। এগুলো যদি বেশি খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে ক্যালোরি ও শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে, যা ধীরে ধীরে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ফলের রস। অনেকেই ভাবেন জুস খাওয়া স্বাস্থ্যকর। কিন্তু আসলে ফলের জুসে ফাইবার কম থাকে আর চিনি বেশি থাকে। ফলে এটি শরীরে দ্রুত শর্করা বাড়িয়ে দেয়, যা ব্লাড প্রেশারর ও সুগার-দুটোই বাড়াতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে ফল খাওয়া বন্ধ করতে হবে। বরং সঠিকভাবে খাওয়া জরুরি। যেমন কলা, আপেল, কমলালেবু, পেয়ারা বা ডালিমের মতো ফল পরিমিত পরিমাণে খেলে উপকারই পাওয়া যায়।এগুলোতে ফাইবার, ভিটামিন ও পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের জন্য ভাল।
চিকিৎসকরা বলেন, প্রতিদিন ১–২ বাটি ফল খাওয়া যথেষ্ট। একসঙ্গে অনেকটা না খেয়ে ভাগ করে খাওয়া ভাল। আর সম্ভব হলে জুসের বদলে পুরো ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, যদি আপনার ব্লাড প্রেশারের সমস্যা থাকে, তাহলে নিজের মতো করে ডায়েট ঠিক না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ কোন ফল আপনার জন্য উপকারীআর কোনটা কম খাওয়া উচিত, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
তাই মনে রাখবেন, ফল খাওয়া ভাল, কিন্তু বেশি খেলেই শরীরের উপকার হবে-এই ধারণা ঠিক নয়। পরিমিত খাওয়া আর সচেতন থাকাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।















