রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকলে তা নীরবে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল ধমনিতে জমে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি করে। তাই হার্টের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ডায়েটের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রোজের খাদ্যতালিকায় কয়েকটি নির্দিষ্ট খাবার যোগ করলে ভোগাবে না খারাপ কোলেস্টেরল। 

বিশেষজ্ঞের মতে, প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বেরি জাতীয় ফলে। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরির মতো ফলে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়। নিয়মিত এই ফল খেলে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য মিলতে পারে।

তালিকায় রয়েছে গ্রিন টি। এতে থাকা ক্যাটেচিন নামের উপাদান এলডিএল কমাতে সহায়ক হতে পারে। প্রতিদিন ১ থেকে ২ কাপ গ্রিন টি খাওয়া উপকারী। তবে চিনি ছাড়া পান করাই ভাল।

বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, রান্নায় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভাল কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়াতে সাহায্য করে।

এছাড়া বাদাম, বিশেষ করে কাঠবাদাম ও আখরোট, হৃদযন্ত্রের জন্য ভাল। এতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ফাইবার থাকে, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খাওয়া যেতে পারে।

সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, ব্রকোলি বা লেটুসেও রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও পুষ্টিগুণ। এগুলো শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বের করে দিতে সহায়ক।

তালিকার শেষ খাবার ডাল  যেমন ছোলা, রাজমা, মুসুর ডাল। এগুলিতে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রে কোলেস্টেরলের শোষণ কমায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা মতে, শুধু খাবার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, কম তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং ধূমপান এড়ানোও জরুরি। কারও কোলেস্টেরল মাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক জীবনযাপনই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।