শীত এলেই অনেকে কম্বলের ভেতর পুরো শরীরের সঙ্গে মুখও ঢেকে ঘুমান। ঠান্ডা হাওয়া থেকে বাঁচতে এই অভ্যাস আরামদায়ক মনে হলেও, চিকিৎসকদের মতে এটি স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভাল নয়। নিয়মিত মুখ ঢেকে ঘুমোলে শরীরে ধীরে ধীরে এমন কিছু সমস্যা তৈরি হয়, যা আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল শ্বাস নেওয়ার অসুবিধা। মুখ ঢেকে ঘুমালে কম্বলের ভেতরে নিঃশ্বাসের বাতাস আটকে যায়। এতে অক্সিজেন কমে গিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ে। এর ফলে রাতে ঠিকমতো শ্বাস নেওয়া যায় না। দীর্ঘদিন এমন হলে সকালে ঘুম ভাঙার পর মাথা ভার লাগা, ঝিমুনি বা অস্বস্তি অনুভব হতে পারে।
এই অভ্যাসে ঘুমের মান খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেলে ঘুম গভীর হয় না। ফলে সারারাত ঘুমিয়েও শরীর ক্লান্ত লাগে। অনেকের ক্ষেত্রে সকালে উঠেই মাথাব্যথা বা মনোযোগের সমস্যা দেখা দেয়।
ত্বকের সমস্যাও বাড়তে পারে মুখ ঢেকে ঘুমালে। কম্বলের ভেতরে ঘাম ও আর্দ্রতা জমে যায়। এতে মুখের ত্বকে ব্রণ, ফুসকুড়ি, চুলকানি বা র্যাশের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি হয়।
এছাড়া মুখ ঢেকে ঘুমোনোর ফলে অ্যালার্জি ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। কম্বল বা চাদরে ধুলো, জীবাণু ও ছত্রাক লেগে থাকতে পারে। মুখ ঢেকে শ্বাস নেওয়ার সময় সেগুলো সরাসরি নাক ও ফুসফুসে ঢুকে পড়ে। এর ফলে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ হওয়া বা শ্বাসনালীর সংক্রমণ হতে পারে।
অনেকের আবার নাক ও মুখ অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাও হয়। কম্বলের ভেতরের গরম বাতাস শুষ্ক হওয়ায় নাকের ভেতর খুসখুস ভাব, গলা শুকিয়ে যাওয়া বা ঠোঁট ফেটে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
এক্ষেত্রে কী করা উচিত? শীতে সঠিকভাবে ঘুমানোর জন্য কিছু সহজ নিয়ম মানলেই যথেষ্ট। ঘুমানোর সময় মুখ খোলা রাখুন, শুধু শরীর ঢেকে রাখুন। পরিষ্কার ও হালকা কম্বল ব্যবহার করুন। ঘরে সামান্য বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। খুব ঠান্ডা লাগলে মোজা, সোয়েটার বা গরম পোশাক পরুন। একটু সচেতন হলেই শীতে সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক ঘুম উপভোগ করা সম্ভব।
