অনিয়মিত মাসিক, তলপেটের ব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি- এই সমস্যাগুলোকে অনেক মহিলাই তেমন গুরুত্ব দেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভেবে নেন, এগুলো হয়তো সাময়িক বা স্বাভাবিক। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ছোট লক্ষণগুলিই ভবিষ্যতের বড় স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যার প্রথম ইঙ্গিত হতে পারে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন? সেবিষয়ে জানালেন আভা সার্জি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কনসালটেন্ট ড. বাণী কুমার মিত্র।
* ঋতুস্রাবের অনিয়ম মানেই সতর্ক হওয়া দরকার: চিকিৎসকদের মতে, খুব বেশি রক্তপাত, দীর্ঘদিন ধরে পিরিয়ড চলা, মাঝেমাঝে রক্তপাত হওয়া বা হঠাৎ পিরিয়ডের তারিখ বদলে যাওয়া কোনওটাই স্বাভাবিক নয়। এগুলি পিসিওএস, ফাইব্রয়েড, থাইরয়েডের সমস্যা বা হরমোনের গোলমালের লক্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে ঋতুস্রাবের সময় অসহ্য ব্যথা যদি দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা দেয়, তাহলে সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে এটি এন্ডোমেট্রিওসিস বা পেলভিক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।
* তলপেটের ব্যথা ও সহবাসের সময় অস্বস্তি: অনেক নারী নিয়মিত তলপেটের ব্যথাকে গ্যাস বা কাজের চাপের ফল বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যথা থাকলে ডিম্বাশয়ের সিস্ট, জরায়ুর সমস্যা বা সংক্রমণ হতে পারে। সহবাসের সময় ব্যথা পাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, যা লজ্জার কারণে গোপন না রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
* যোনির স্রাব ও সংক্রমণের লক্ষণ: যোনি স্রাবের রং বা গন্ধ বদলে যাওয়া, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া— এগুলো সংক্রমণের সাধারণ লক্ষণ। শুরুতেই চিকিৎসা করলে সহজে সেরে যায়। কিন্তু দেরি করলে বারবার সংক্রমণ, পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ এমনকী ভবিষ্যতে গর্ভধারণের সমস্যাও হতে পারে।
* অতিরিক্ত ক্লান্তি ও হরমোনের সমস্যা: সবসময় ক্লান্ত লাগা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা হঠাৎ ওজন বাড়া-কমা অনেক সময় শুধু মানসিক চাপের ফল নয়। এর পেছনে রক্তল্পতাতা, থাইরয়েড বা হরমোনের সমস্যা থাকতে পারে।
আগেভাগে চিকিৎসাই সবচেয়ে নিরাপদ।বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে চিকিৎসা সহজ হয় এবং বড় অপারেশন বা দীর্ঘ চিকিৎসার প্রয়োজন কমে যায়। তাই শরীরের ছোট পরিবর্তনকেও অবহেলা না করে সচেতন হওয়াই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
