কনফেডারেশন অফ সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ অ্যান্ড ওয়ার্কার্স (সিসিজিইডব্লিউ) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী একদিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
2
7
মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে লেখা এক চিঠিতে সিসিজিইডব্লিউ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের শর্তাবলীর উন্নতি এবং পুরোনো পেনশন স্কিম (ওপিএস) পুনর্বহালের মতো মূল দাবিগুলো পূরণ না হলে সারা দেশে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ২০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন ত্রাণ এবং ১৮ মাসের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে এক মরণপণ লড়াইয়ে নেমেছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা।
3
7
সিসিজিইডব্লিউ-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি হল অষ্টম বেতন কমিশনের কার্যপরিধির (টার্মস অফ রেফারেন্স) বিষয়ে। কর্মচারীরা জোর দিয়ে বলছেন যে, স্বচ্ছ বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য কমিশনের কার্যপরিধিতে স্টাফ পক্ষের (এনসি-জেসিএম) পরামর্শগুলো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সংস্থাটি জোরালোভাবে দাবি করেছে যে, বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে সকল কর্মচারী ও পেনশনভোগীকে ২০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন ত্রাণ প্রদান করতে হবে।
4
7
এছাড়াও, আরেকটি প্রধান দাবি হল মহার্ঘ ভাতার (ডিএ/ডিআর) ৫০ শতাংশ অবিলম্বে মূল বেতন ও পেনশনের সঙ্গে একীভূত করা। উল্লেখ্য যে, অষ্টম বেতন কমিশন ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৈরি হয়েছিল এবং সেই কমিশনকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কর্মচারীরা আর অপেক্ষা করতে রাজি নন।
5
7
এই ধর্মঘটের সবচেয়ে সংবেদনশীল দিকটি হল পেনশন ইস্যু। কর্মচারীরা নতুন পেনশন স্কিম (এনপিএস) এবং কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি চালু করা ইউনিফাইড পেনশন স্কিম (ইউপিএস) সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংস্থাটির স্পষ্ট দাবি হল, সকল কেন্দ্রীয় কর্মচারীর জন্য কোনও শর্ত ছাড়াই পুরোনো পেনশন স্কিম (ওপিএস) পুনর্বহাল করতে হবে।
6
7
এছাড়াও, অবসরের তারিখের ভিত্তিতে পেনশনভোগীদের মধ্যে বৈষম্যের অবসানেরও দাবি জানানো হয়েছে। কর্মচারীরা আরও দাবি করেছেন যে, ১৫ বছরের পরিবর্তে ১১ বছর পর থেকে কমিউটেড পেনশনের পুনরুদ্ধার বন্ধ করতে হবে, যাতে বয়স্ক পেনশনভোগীরা হাতে আরও বেশি টাকা পান। কোভিড মহামারীর সময় আটকে রাখা ১৮ মাসের মহার্ঘ ভাতা/মহার্ঘ ত্রাণ বকেয়ার বিষয়টিও ধর্মঘটের কর্মসূচিতে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর্মচারীরা চান সরকার যেন আর কোনও বিলম্ব না করে এই বকেয়া অর্থ পরিশোধ করে দেয়।
7
7
দাবিপত্রে রয়েছে, ন্যূনতম পেনশন প্রতি মাসে ৯,০০০ টাকা করা এবং চারটি নতুন শ্রম আইন বাতিল করা। সংগঠনটি বলছে, সরকার শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাব গ্রহণ করছে, যা আর সহ্য করা হবে না। ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট এই ক্ষোভেরই ফল।