অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। হঠাৎ পেট খারাপ, গ্যাস বা বদহজমকে আমরা অনেক সময় ছোটখাটো সমস্যা মনে করি। কিন্তু এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে অন্ত্রের প্রদাহের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোটখাটো বিষয়গুলোও উপেক্ষা করলে পরবর্তীতে বড় সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি? জেনে নিন-

বারবার বদহজম ও গ্যাসঃ যদি খাওয়ার পর বারবার বদহজম বা অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তা অন্ত্রের প্রদাহের আশঙ্কা চিহ্নিত করে। এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে খাবারের পুষ্টি ঠিকমতো শোষিত হয় না। এতে শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে।

পেটে ফোলাভাব ও ব্যথাঃ খাওয়ার পর ক্রমাগত ফোলাভাব বা পেটে ব্যথা থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যদি হালকা খাবার খাওয়ার পরও সমস্যা হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। 

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়াঃ অন্ত্রের প্রদাহ পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। তাই হঠাৎ ওজন কমতে পারে। নিয়মিত ওজন কমা বা খিদে কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করা উচিত।

সারাদিন ক্লান্তি ও দুর্বলতাঃ পুষ্টি ঠিকমতো শোষিত না হলে শরীরে এনার্জি কমে আসে। ফলে সারাদিন ক্লান্তি, দুর্বলতা ও অ্যালার্জি অনুভূত হতে পারে।

ত্বক ও চুলের সমস্যাঃ অন্ত্র প্রদাহের কারণে শরীরে ভিটামিন ও খনিজের অভাব দেখা দেয়। ফলে ত্বক শুষ্ক বা খসখসে হয়ে যেতে পারে, চুল পড়ে যেতে পারে এবং ব্রণও হতে পারে।

মানসিক চাপ ও মেজাজ পরিবর্তনঃ গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্বাস্থ্য সরাসরি মনের সঙ্গে যুক্ত। অন্ত্রের প্রদাহ মানসিক চাপ, চিড়চিড় বা বিষণ্ণতার কারণ হতে পারে।

প্রতিরোধের সহজ উপায়

* প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও তেল কমান।
* বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন ফল, সবজি, শস্য খান। 
* পর্যাপ্ত জল পান করুন।
* নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমান।
* মানসিক চাপ কমানো।
* প্রোবায়োটিক বা দই নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ছোট ছোট লক্ষণও উপেক্ষা না করে সতর্ক হলে অন্ত্র এবং শরীর উভয়ই থাকবে সুস্থ।