অনেকেই ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমোনোর পরও সকালে উঠে ক্লান্ত অনুভব করেন। চোখ খোলার পর শরীর ভারী লাগে, কাজের এনার্জি থাকে না। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার কারণে এমনটা হয় বলে বেশিরভাগ মানুষের ধারণা রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত এই সমস্যা হলে তা শরীরের কোনও লুকোনো অসুখের ইঙ্গিতও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কত ঘণ্টা ঘুমোলেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ঘুমের গুণমান জরুরি। গভীর ঘুম বা ‘রিস্টোরেটিভ স্লিপ’ ঠিকমতো না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক পুরো বিশ্রাম পায় না। স্লিপ অ্যাপনিয়া অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যাওয়া, রেস্টলেস লেগস সিন্ড্রোম বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলে মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাঁর ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে না। ফলে সকালে ওঠার পর ক্লান্তি থেকেই যায়।
এছাড়া কিছু শারীরিক সমস্যাও সকালে অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণ হতে পারে। যেমন থাইরয়েডের গোলমাল, রক্তল্পতা, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। এই সব অবস্থায় শরীরের শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি কাটে না।
মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাবও কম নয়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা ডিপ্রেশন ঘুমের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট করে দেয়। অনেকেই রাতে বারবার জেগে ওঠেন বা হালকা ঘুমে থাকেন। ফলে সকালে সতেজ অনুভব করা কঠিন হয়ে যায়।
জীবনযাত্রার অভ্যাসও এখানে বড় ভূমিকা নেয়। ঘুমের আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার, দেরি করে শোওয়া, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা ভারী খাবার খাওয়া—এসব কারণে ঘুমের গুণমান কমে যায়। নিয়মিত ব্যায়ামের অভাবও ক্লান্তির অন্যতম কারণ।
চিকিৎসকদের মতে, যদি সপ্তাহের পর সপ্তাহ সকালে ওঠার পর ক্লান্তি না কাটে, তবে বিষয়টি হালকাভাবে না নেওয়াই ভাল। সঙ্গে যদি দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পায়, মনোযোগ কমে যায়, মাথাব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন, সকালের ক্লান্তি সবসময় সাধারণ বিষয় নয়। এটি কখনও কখনও শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হতে পারে। তাই নিজের শরীরের কথা শুনুন, প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করান, এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন।
