ঘাড়ে হালকা অস্বস্তি হলেই অনেকে অভ্যাসবশত ঘাড় মটকান বা নিজে নিজে ‘অ্যাডজাস্ট’ করেন। কেউ আবার ‘ক্র্যাক’ করলে আরাম লাগে ভেবে নিয়মিত এই কাজ করেন। কিন্তু জানেন কি এই অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক হতে পারে? 

অনেকেই ঘাড় ঘোরালে বা ‘ক্র্যাক’ করলে পিছনের দিকে গরম বা ঝনঝন অনুভূতি অনুভব করে। অনেকের কাছে এটি স্বস্তিদায়ক মনে হলেও চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, এটি সবসময় নিরাপদ নয়। চিকিৎসকদের মতে, ঘাড়ে ‘ক্র্যাক’ হওয়ার আওয়াজ আসলে সিনোভিয়াল ফ্লুইডে থাকা গ্যাস বুদবুদ ফেটে যাওয়ার শব্দ। এতে সাময়িকভাবে চাপ কমে যায় এবং শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, এতে স্বস্তি ও গরম অনুভূতি দেয়। অনেকেই একে উপভোগ্য মনে করেন।

কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন কেউ নিয়মিত ঘাড় ‘ক্র্যাক’ করতে শুরু করে। বারবার ঘাড় ঘোরালে ঘাড়ের লিগামেন্ট বা সংযোগকারী ফাইবার অস্থায়ীভাবে প্রসারিত হয়। দীর্ঘ সময়ের পরে এগুলো ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে। ফলে ঘাড়ের স্থিতিশীলতা কমে যায় এবং আরও বেশি ‘ক্র্যাক’ করার অভ্যাস তৈরি হয়। 

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি আসে স্নায়ু ও রক্তনালির ওপর চাপ পড়ার কারণে। ঘাড়ের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি মস্তিষ্কে রক্ত পাঠায়। অতিরিক্ত জোরে ঘাড় ঘোরালে বিরল স্ট্রোক বা গুরুতর সমস্যা ঘটার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া ঘাড়ের ডিস্কও চাপ পেতে পারে, ফলে হাতে ব্যথা, ঝিমঝিম ভাব, বা শারীরিক দুর্বলতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

গরম অনুভূতি বা ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সঙ্গে হাতের দুর্বলতা থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি হতে পারে ডিস্ক সমস্যা, পেশির টান বা স্নায়ু উত্তেজনার ইঙ্গিত।

চিকিৎসকরা সাধারণত ঘাড় ‘ক্র্যাক’ করার বদলে পেশি শিথিল করার ব্যায়াম, ধীরে স্ট্রেচ করা এবং ঘাড়ের এনার্জি বাড়ানোর পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি বা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন। 

ঘাড় ঘোরালে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু নিয়মিত ও জোর করে করলে শরীরের জন্য ঝুঁকি বাড়ে। তাই সতর্ক থাকা এবং নিরাপদ পদ্ধতিতে ঘাড়ের চাপ কমানোর ব্যায়াম করা জরুরি।