হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, বুকে চাপ বা বমিভাব হতে পারে উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ। যার সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত বয়ে আনে। আসলে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার এমন এক সমস্যা, যা বেশিরভাগ সময় কোনও লক্ষণ ছাড়াই শরীরের ভেতরে ক্ষতি করে যায়। তাই চিকিৎসকরা একে ‘নীরব ঘাতক’ বলে থাকেন। 

উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি সমস্যার অন্যতম বড় কারণ। তবে আশার কথা, এটি সবচেয়ে সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে একটি। সঠিক সময়ে ধরা পড়লে এবং নিয়ম মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

চিকিৎসকদের মতে, অনেকে বছরে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়ই শুধু রক্তচাপ মাপেন। কিন্তু বাস্তবে এটি যথেষ্ট নয়। রক্তচাপ দিনে দিনে এমনকী একই দিনেও ওঠানামা করে। মানসিক চাপ, ঘুম কম হওয়া, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, কাজের চাপ বা শারীরিক পরিশ্রম-সবকিছুর প্রভাব রক্তচাপের ওপর পড়ে। তাই চিকিৎসকেরা মনে করেন, যাদের বয়স ৩০ বছরের বেশি, যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস আছে অথবা যাদের আগে থেকেই রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত রক্তচাপ মাপা উচিত।

দিনে কতবার রক্তচাপ মাপবেন? বিশেষজ্ঞরা বলেন, যাঁরা হাই ব্লাড প্রেসারে ভুগছেন, তাঁদের দিনে অন্তত দু’বার অর্থাৎ সকাল ও সন্ধ্যায় রক্তচাপ মাপা ভাল। এতে শরীরের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় এবং রক্তচাপের গড় মান জানা সম্ভব হয়। এই তথ্য চিকিৎসকের চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে।

অনেক সময় হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গেলে ভয় বা টেনশনের কারণে রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। এতে সঠিক রিপোর্ট নাও আসতে পারে। তাই ঘরের শান্ত পরিবেশে ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মেশিন দিয়ে রক্তচাপ মাপা বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মত চিকিৎসকদের। নিয়মিত রক্তচাপ মাপলে হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে দ্রুত সতর্ক হওয়া যায়, ওষুধ ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা বোঝা যায়, ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। 

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?চিকিৎসকেরা বলেন, জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই রক্তচাপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেমন খাবারে লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত ঘুম। প্রয়োজনে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপকে অবহেলা করা মানেই ভবিষ্যতে বড় বিপদের ঝুঁকি নেওয়া। তাই চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন, জীবনযাপনে সচেতন হন। সময় থাকতে সতর্ক হলেই সুস্থ হৃদয় বজায় রাখা সম্ভব।