অনেকেই মনে করেন, উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা মানেই শুধু মানসিক সমস্যা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সবসময় তা নাও হতে পারে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অকারণ উদ্বেগ বা অস্থিরতা কখনও কখনও হার্টের সমস্যার আগাম সংকেত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে হৃদরোগ বললেই বেশিরভাগ মানুষ তীব্র বুকব্যথার কথা ভাবেন। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের লক্ষণ অনেক সময় ভিন্নভাবে দেখা যায়। হৃদরোগ মানেই বুকব্যথা, মহিলাদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। মহিলাদের উপসর্গ অন্যভাবে দেখা যায়। যেমন—অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাস নিতে কষ্ট, মাথা ঘোরা, হালকা বুকের অস্বস্তি কিংবা অকারণ অস্থিরতা বা উদ্বেগ। এই লক্ষণগুলো অনেক সময় হৃদরোগের ঘটনার কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস আগেও দেখা দিতে পারে। 

চিকিৎসকদের মতে, অনেক মহিলা দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি বা দুশ্চিন্তার মতো সমস্যা অনুভব করলেও সেটিকে মানসিক চাপ বা কাজের ক্লান্তি বলে মনে করেন। ফলে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু কখনও কখনও এই লক্ষণগুলো হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচলের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

আসলে মহিলাদের মধ্যে মাইক্রোভাসকুলার অ্যাঞ্জাইনা নামে একটি সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এই অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ছোট রক্তনালিগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। কিন্তু সাধারণ পরীক্ষায় বড় ধমনিগুলো স্বাভাবিক দেখা যেতে পারে। ফলে রোগটি অনেক সময় সহজে ধরা পড়ে না। 

এই সমস্যার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বুকের হালকা অস্বস্তি বা শরীরে অদ্ভুত অস্থিরতা। এসব উপসর্গ অনেক সময় উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটির মতো মনে হয়। তাই অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে প্রথমে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হয়, অথচ আসল সমস্যা হৃদযন্ত্রের হতে পারে। 

গবেষণাতেও দেখা গিয়েছে, মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগের সঙ্গে হৃদরোগের কিছু উপসর্গের সম্পর্ক থাকতে পারে। অনেক সময় উদ্বেগ এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ একে অপরের সঙ্গে মিলেও যেতে পারে, ফলে রোগ নির্ণয় কঠিন হয়ে যায়।

চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন,  যদি দীর্ঘদিন ধরে অকারণ উদ্বেগ, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা বুকের অস্বস্তি দেখা যায়, তাহলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা করানো উচিত। সচেতন থাকলে এবং শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিলে অনেক বড় বিপদ আগেই এড়ানো সম্ভব।