ব্লাড ক্যানসাক অনেক সময় খুব সাধারণ কিছু লক্ষণ দিয়ে শুরু হয়। তাই প্রথমদিকে অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। তবে চিকিৎসকদের মতে, ত্বকে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে তা কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের এই লক্ষণগুলোই রক্তের ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লাড ক্যানসার হলে শরীরে রক্তকণিকার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। ফলে রক্তে প্লেটলেটের পরিমাণ কমে যেতে পারে। আর সেই কারণেই ত্বকে বিভিন্ন ধরনের দাগ, র্যাশ বা কালশিটে দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, ত্বকে হঠাৎ ছোট ছোট লাল বা বেগুনি দাগ দেখা গেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় এগুলো সূচ ফোটার মতো দেখতে হয়। এই ধরনের দাগকে পিটিকিয়া বলা হয়। রক্তে প্লেটলেট কমে গেলে এমন দাগ দেখা দিতে পারে, যা ব্লাড ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণ।
এছাড়া কোনও বড় আঘাত না লাগলেও যদি শরীরে সহজেই কালশিটে পড়ে যায়, সেটিও একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। অনেক সময় রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা হলে এমন দাগ দেখা যায়।
ত্বকে অস্বাভাবিক র্যাশ বা ফুসকুড়িও এই রোগের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। বিশেষ করে যদি এই র্যাশ দীর্ঘদিন ধরে থাকে এবং সহজে না সারে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কিছু ক্ষেত্রে আবার ত্বকে প্রচণ্ড চুলকানিও হতে পারে। অনেক সময় কোনও র্যাশ বা দাগ না থাকলেও এই চুলকানি দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা হলে সেটিও অবহেলা করা উচিত নয়।
এছাড়াও ত্বকে লালচে, খসখসে বা মোটা প্যাচের মতো দাগ দেখা গেলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কিছু ধরনের রক্তের ক্যানসারে এমন লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
তবে চিকিৎসকদের স্পষ্ট মত, এই লক্ষণগুলো যে শুধু ব্লাড ক্যানসারের তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অনেক সাধারণ কারণেও ত্বকে এমন সমস্যা হতে পারে। কিন্তু যদি এই লক্ষণগুলো বারবার দেখা যায় বা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তাই ত্বকে অস্বাভাবিক কোনও পরিবর্তন দেখলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই শ্রেয়।
