জল পান করা সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। জলের মাধ্যমেই বেশিরভাগ শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন হয়। অনেকেই মনে করেন, তৃষ্ণা পেলেই জল খাওয়া দরকার। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃষ্ণা লাগা মানে শরীর ইতিমধ্যেই কিছুটা জলশূন্য হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ শরীরে জলের ঘাটতি হওয়ার আগেই বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। যা বেশিরভাগ মানুষই বুঝতে পারেন না। ফলে ধীরে ধীরে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা বাড়তে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত জল না থাকলে নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। তাই তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নিয়মিত জল খাওয়া জরুরি। সেক্ষেত্রে কোন কোন সংকেত দেখলে সতর্ক হবেন? জেনে নিন-
অকারণ ক্লান্তিঃ পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাদিন শরীর দুর্বল লাগে বা কাজ করতে ইচ্ছে না করে, তাহলে তা জলের অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে। শরীরে জল কমে গেলে কোষে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না, ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
বারবার মাথাব্যথাওঃ এটি ডিহাইড্রেশনের একটি বড় লক্ষণ। শরীরে জলের মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কে সামান্য প্রভাব পড়ে, যার ফলে মাথা ব্যথা বা ভার লাগতে পারে। অনেকেই এই সমস্যাকে অন্য কারণে হচ্ছে বলে ভাবেন, কিন্তু আসলে এর পেছনে জলের অভাব থাকতে পারে।
ত্বকে শুষ্কতাঃ ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফেটে যাওয়া বা মুখ শুকিয়ে যাওয়াও শরীরে জলের ঘাটতির লক্ষণ। শরীর ঠিকমতো হাইড্রেটেড না থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়।
মাথা ঘোরাঃ হঠাৎ মাথা ঘোরা বা দাঁড়ালে চোখে অন্ধকার দেখা—এগুলোও ডিহাইড্রেশনের সংকেত হতে পারে। শরীরে তরলের ঘাটতি হলে রক্তচাপ ও রক্ত চলাচলেও প্রভাব পড়ে, ফলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রস্রাবের রং বদলঃ প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। সাধারণত পর্যাপ্ত জল পান করলে প্রস্রাবের রং হালকা থাকে। কিন্তু শরীরে জল কমে গেলে প্রস্রাব গাঢ় হয়ে যায় এবং তার গন্ধও বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার জল বা তরল পান করা উচিত। গরমের সময় বেশি ঘাম হলে বা শরীরচর্চা করলে আরও বেশি জলের প্রয়োজন হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে সারাদিনে অল্প অল্প করে জল পান করার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। এতে শরীর হাইড্রেটেড থাকবে এবং অনেক সমস্যার ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে।
