ভারতীয় নাগরিকদের রোজকার জীবনে বিভিন্ন কাজ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে একাধিক নথি লাগে। সে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খোলা হোক বা হাসপাতালে বা অন্য কিছু। পরিচয় বা সেই প্রকল্পের জন্য যোগ্য কিনা সেটাও নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হয় এই নথিগুলোর। আর সেগুলোর অন্যতম হল রেশন কার্ড। এই কার্ডের সাহায্যে খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের থেকে সস্তায় খাদ্যশস্য পাওয়া যায়। এবার এই নথি সংক্রান্ত নিয়মে কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কিছু বদল এনেছে। জেনে নিন এবার থেকে কারা রেশন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন, কারা নয়। 

কারা রেশন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন? 

যে পরিবারের বার্ষিক আয় ১.২ লাখ টাকার বেশি তাঁরা রেশন কার্ডের জন্য আর আবেদন করতে পারবেন না। এমনকী যাঁদের পাকা বাড়ি আছে বা এ, বি, সি, ডি অথবা ই ক্যাটাগরির কোনও কলোনিতে ফ্ল্যাট আছে তাঁরাও আর আবেদন করতে পারবেন না। বা রেশনের সুবিধা পাবেন না। আয়কর দেন যাঁরা তাঁরাও স্বাভাবিক ভাবেই বাদ পড়বেন। তবে এই সমস্ত নিয়ম কেবল দিল্লির বাসিন্দাদের জন্য। এখনও দেশের বাকি জায়গায় এই নিয়ম লাগু হয়নি। 

তবে কেবল এতটুকু নয়, রয়েছে আরও নিয়ম। যে পরিবারে ২ কিলোওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ খরচ করা হয়, তাঁদের আবেদন নাকচ করা হবে। যাঁদের নিজেদের গাড়ি বা বাইক অথবা স্কুটি আছে তাঁরাও আর রেশন স্কিমের আওতায় পড়বেন না। সরকার চাইছে এই সুবিধা যেন মূলত আর্থিক ভাবে দুর্বল এবং আদতেই যাঁদের রেশনের প্রয়োজন রয়েছে তাঁরাই যেন সেটা পান। 

এই নতুন সিস্টেম অনুযায়ী, কেউ রেশন প্রকল্পের আওতায় পড়ছেন কিনা সেটা যাচাই করা হবে অনলাইনে। আয়, সম্পত্তি, গাড়ি, বিদ্যুতের খরচ ইত্যাদি সবটাই দেখা হবে। ভুয়ো আবেদন আটকানোর জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাঁদের বর্তমানে রেশন কার্ড আছে, তাঁদের অসুবিধা নেই। কিন্তু যাঁরা নতুন কার্ডের আবেদন করবেন তাঁদের উক্ত সমস্ত কিছু মানতে হবে। নইলে আবেদন বাতিল হবে। 

আবেদন করার জন্য পরিবারে সবার আধার নম্বর, ইনকাম সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথির ছবি জমা দিতে হবে। জেলা ভিত্তিক কমিটির তরফে সেই আবেদন যাচাই করা হবে। তারপর আবেদনকারীর নামে রেশন কার্ডের ইস্যু হবে।