আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি, ফাল্গুন মাসের শুক্ল পক্ষের একাদশী। এই ফাল্গুন একাদশীকে আমলকী একাদশীও বলা হয়ে থাকে। এই দিন মনে করা হয় আমলকী দান করলে একাধিক যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়। তাই আমলকী একাদশীর দিন আমলকী গাছের পুজো করার পাশাপাশি আমলকী দান করার বিধান দেওয়া হয়। 

এই বছরের ফাল্গুন মাসের এই আমলকী একাদশী ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যরাত ১২ টা ৩৩ মিনিটে শুরু হবে, ছাড়বে একই দিনের রাত ১০ টা ৩২ মিনিটে। 

আমলকী একাদশীর দিন কেন আমলকী গাছের পুজো হয়? হিন্দু ধর্মে এই গাছকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। তাই ফাল্গুন মাসের শুক্ল পক্ষের একাদশী তিথি আমলকী গাছের পুজো করা হয়। একই সঙ্গে এদিন বিষ্ণুর পুজো করা হয়। এই দুইয়ের পুজো একসঙ্গে করা হলে তবে আমলকী একাদশীর ব্রত পালন সম্পন্ন হয় বলে মনে করা হয়। 

আমলকী একাদশীর ব্রত পালন করলে পরিবারে সুখ, শান্তি বজায় থাকে। কাজে কোনও বাধা, বিপত্তি এসে তাহলে সেটাও দূর হয়। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যায়। এই দিন আমলকী খেলে মনে করা হয় একাধিক অসুখ, বিসুখের হাত থেকে নিষ্কৃতি মেলে। 

আমলকী একাদশী বা ফাল্গুন মাসের শুক্ল পক্ষের একাদশী তিথিতে এই ৭ কাজ করলে ভাগ্য প্রসন্ন হয়। জীবনের একাধিক কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ হয়। কী কী? 

এবার জেনে নিন, আমলকী একাদশীর দিন কোন ৭ কাজ অবশ্যই করবেন: 

প্রথমত, এদিন সন্ধ্যায় তুলসী গাছের তলায় অবশ্যই প্রদীপ জ্বালান। 

দ্বিতীয়ত, আমলকী একাদশীতে বিষ্ণুর পুজো করার পাশাপাশি তার মন্ত্র জপ করুন। কী মন্ত্র? ওম নমঃ ভগবততে বাসুদেবায়। 

শ্রীকৃষ্ণের অভিষেক করুন। সঙ্গে পাঠ করুন এই মন্ত্র: ক্রিং কৃষ্ণায় নমঃ। 

কেবল বিষ্ণু, শ্রীকৃষ্ণের পুজো নয়। এদিন গোমাতার পুজো করুন। কোনও গোশালায় গিয়ে গরুদের দেখভাল করুন। খড়-বিচালি খাওয়ান। 

কোনও মন্দিরে কুমকুম, চন্দন, মিষ্টি, তেল, ঘি, ফুল, ফল, ভগবানের বস্ত্র অর্পণ করুন। 

এদিন অবশ্যই একটা আমলকী খান। খাওয়ার পাশাপাশি আমলকী কাউকে দানও করুন। 

এদিন কোনও দুঃস্থ মানুষকে খাবার দান করুন। 

হোলির ঠিক চার দিন আগে আমলকী বা রংভরী একাদশী পালিত হয়। হিন্দু বা বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এদিন বেনারসের বাবা বিশ্বনাথ হোলি খেলার পর্ব শুরু করেন। অন্যদিকে ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ অনুসারে, আমলকী গাছ এবং বিষ্ণুর পুজো করা উচিত।