ভারতের বুকে এমন ৬টি মন্দির রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট কিছু সময় পুরুষদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। তালিকায় রয়েছে ভারতের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিভিন্ন মন্দির। জেনে নিন সম্পূর্ণ তালিকা এবং তার নেপথ্যের কারণ। 

ব্রহ্মা মন্দির: রাজস্থানের পুষ্করে অবস্থিত এই মন্দিরটি। পুরুষরা এমনই প্রবেশ করতে পারেন এই মন্দিরে। তবে বিবাহিত পুরুষরা পুজো দিতে পারেন না বা যেতে পারেন না এই মন্দিরের সেইসব জায়গায় যেখানে পুজো হয়। এর নেপথ্যে একটি পৌরাণিক গল্প রয়েছে। কথিত আছে, ব্রহ্মা যখন একবার যজ্ঞ করছেন তখন দেবী সরস্বতী অত্যন্ত রেগে যান। তাই এই মন্দিরে বিবাহিত পুরুষদের পুজো দেওয়া নিষিদ্ধ। 

কামাখ্যা মন্দির: অসমের কামাখ্যা মন্দির ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম। এবং মনে করা হয় এটি অন্যতম শক্তিশালী দেবীক্ষেত্র। এখানে কোনও মূর্তি নেই , বরং একটি পাথর পূজিত হয় যার আকার মহিলাদের যোনির মতো। অম্বুবাচীর সময় প্রতি বছর তিন দিনের জন্য মন্দির বন্ধ থাকে। এই সময়টিকে দেবীর মাসিকের সময় বলে মনে করা হয়। এখানেও যদিও পুরুষদের প্রবেশ নিয়ে তেমন কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই, তাও ওই দিন মন্দিরে প্রবেশ করা হয় না। মাসিককে পবিত্র বলে মনে করা হয়। 

সন্তোষী মাতার মন্দির: বৃন্দাবনের সন্তোষী মাতার মন্দিরে স্থানীয় মহিলারা নানা আচার, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুজো করেন। এখানেও বছরের কিছু নির্দিষ্ট দিনে পুরুষদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। শুক্রবার করে অনেক মহিলারাই সন্তোষী মাতার ব্রত রাখেন মূলত সুখ, সমৃদ্ধির জন্য। 

ভগবতী মন্দির: দক্ষিণ ভারতের তামিল নাড়ুতে অবস্থিত এই মন্দিরে নির্দিষ্ট কিছু পুজোর সময় পুরুষদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। এই মন্দিরে দেবীকে কুমারী রূপে পুজো করা হয়। আত্মনির্ভর, বিশুদ্ধতার প্রতীক। 
চক্কুলাথুকভু মন্দির: কেরলের এই মন্দিরে প্রতি বছর একটি অনুষ্ঠান হয়, নারী পুজো। মহিলাদের দেবী জ্ঞানে পুজো করা হয়। মহিলা ভক্তদের পা ধুইয়ে দেন পুরোহিত। এখানে পুরুষদের থেকে মহিলাদের এগিয়ে রাখা হয়। 

আত্তুকাল ভগবতী মন্দির: এটিকে মহিলাদের শবরীমালাও বলা হয়ে থাকে। আত্তুকাল পোঙ্গল উৎসবের সময় বহু মহিলারা এখানে আসেন পুজো দিতে। রাস্তার পাশে রান্না করা হয়। লক্ষ লক্ষ মহিলারা সমবেত হন। পুরুষরা এই সময় মন্দির থেকে দূরে থাকেন। নারীশক্তির উদ্‌যাপন চলে সেই সময়।