আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফোন হাতে নিয়ে অধীর অপেক্ষা। সঙ্গীকে মেসেজ পাঠিয়েছেন বেশ কিছুক্ষণ হল। ‘ডেলিভার্ড’ বা ‘সিন’ দেখাচ্ছে, কিন্তু উত্তরের দেখা নেই। মিনিটের কাঁটা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে বুকের ধুকপুকুনি, মাথায় ভিড় করছে একরাশ দুশ্চিন্তা- ‘অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছে না তো?’, ‘আমায় কি আর গুরুত্ব দিচ্ছে না?’ বা ‘সব ঠিক আছে তো?’। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সম্পর্কের এই অস্বস্তি অত্যন্ত পরিচিত এক ছবি। তবে মনোবিদদের মতে, এ নিছক অধৈর্য হওয়া নয়, এর নেপথ্যে থাকতে পারে গভীর মানসিক নিরাপত্তাহীনতা বা ‘রিলেশনশিপ অ্যাংজাইটি’।

উদ্বেগের কারণ কী?
এই ধরনের উদ্বেগের নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে। মনোবিদরা কয়েকটি প্রধান কারণকে চিহ্নিত করেছেন।
১। সম্পর্কের নিরাপত্তাহীনতা: এর মূলে থাকতে পারে সম্পর্ক হারানোর ভয়। সঙ্গীর ভালবাসা বা গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। মেসেজের দ্রুত উত্তর তখন ভালবাসার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। উত্তর আসতে দেরি হলে মনে হতে থাকে, সম্পর্কে হয়তো কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
২। আত্মবিশ্বাসের অভাব: নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলেও এমনটা হতে পারে। যখন কোনও ব্যক্তি নিজেকে যথেষ্ট যোগ্য মনে করেন না, তখন তিনি সঙ্গীর কাছ থেকে প্রতিনিয়ত নিজের গুরুত্বের প্রমাণ পেতে চান। দ্রুত উত্তর না এলে তাঁর মনে হতে থাকে, তিনি হয়তো সঙ্গীর কাছে আর আকর্ষণীয় নন।
৩। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা: অতীতে কোনও সম্পর্ক যদি হঠাৎ ভেঙে গিয়ে থাকে বা কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন, তবে নতুন সম্পর্কে সেই পুরনো ভয় তাড়া করে বেড়াতে পারে। সঙ্গীর সামান্য দেরিতে উত্তর দেওয়াকেও তখন বড় বিপদ সঙ্কেত বলে মনে হতে থাকে।
৪। অবাস্তব প্রত্যাশা: আজকের ডিজিটাল যুগে আমরা তাৎক্ষণিক যোগাযোগে অভ্যস্ত। এই অভ্যাস থেকেই অনেকে আশা করেন, সঙ্গীও সব সময় তাঁর জন্য ব্যাকুল থাকবেন। কিন্তু বাস্তবে প্রত্যেকেরই নিজস্ব কাজ, ব্যস্ততা এবং ব্যক্তিগত পরিসর থাকে। এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে না পারলে উদ্বেগ বাড়ে।

সম্পর্কে এর প্রভাব
এই ধরনের আচরণ ধীরে ধীরে সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত উদ্বেগ থেকে জন্মায় সন্দেহ। ফলস্বরূপ, সঙ্গীকে বারংবার প্রশ্ন করা, তাঁর উপর নজরদারি করার প্রবণতা তৈরি হয়, যা সম্পর্কের স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করে দেয়। অপর দিকে, যাঁর বিরুদ্ধে ক্রমাগত সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, তিনিও একটা সময় ক্লান্ত এবং বিরক্ত হয়ে পড়েন। এতে সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ে এবং দূরত্ব তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর পিঠ জিভ দিয়ে চেটে দেয় পুরুষ, স্ত্রী যদি পাল্টা লেহন করে, তবেই হয় মিলন! পৃথিবীর একমাত্র জীবিত ড্রাগন এরাই

কীভাবে সামলাবেন এই পরিস্থিতি?
খোলামেলা আলোচনা: সঙ্গীর সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন। অভিযোগের সুরে নয়, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন এবং তাঁর ব্যস্ততার কারণ বোঝার চেষ্টা করুন।
বাস্তবকে মেনে নিন: এটা বুঝতে শিখুন যে, আপনার সঙ্গী সব সময় ফোন হাতে বসে থাকতে পারেন না। তাঁরও নিজস্ব জীবন এবং কাজ রয়েছে।
মনকে অন্য দিকে চালিত করুন: সঙ্গী মেসেজের উত্তর দিচ্ছেন না দেখে বার বার ফোন ঘাঁটার বদলে নিজের পছন্দের কোনও কাজে মন দিন। বই পড়ুন, সিনেমা দেখুন বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলুন।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যদি এই উদ্বেগ আপনার দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তবে বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।
মনে রাখবেন, সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হল বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা। মেসেজের উত্তর কত দ্রুত এল, তার উপর ভিত্তি করে সম্পর্কের গভীরতা মাপা যায় না।