আপনার কি পাশে কেউ জোরে চিবোলে বা শ্বাস নিলে মেজাজ বিগড়ে যায়? বা কারও কলম টোকানোর শব্দ, পান করার আওয়াজ শুনে মাথা গরম হয়ে ওঠে? এই ধরনের কোনও কিছু হলেই জেনে রাখুন, এটি কেবল মেজাজ খারাপের লক্ষণ নয়, এক বাস্তব মানসিক সমস্যাও। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যা বলা হয় ‘মিসোফোনিয়া’ । 

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিসোফোনিয়া হল এক ধরনের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা যেখানে কিছু নির্দিষ্ট শব্দের প্রতি মানুষের সহনশীলতা অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। এই শব্দগুলো শুনলে হঠাৎ তীব্র রাগ, অস্বস্তি, উদ্বেগ হয়। এমনকি শারীরিক প্রতিক্রিয়া যেমন হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘাম হওয়া বা শরীরে টান লাগার অনুভব হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ চোখই বলে দিতে পারে শরীরে হানা দিয়েছে কোন মারাত্মক রোগ! ৫ লক্ষণ দেখে বুঝুন বিপদ সংকেত

সাধারণত এই প্রতিক্রিয়া চিবোনো, শ্বাস নেওয়া, ঢক ঢক করে পানীয় পান করা, টোকা দেওয়া, কীবোর্ডে টাইপ করা বা পায়ের শব্দের মতো দৈনন্দিন আওয়াজে দেখা দেয়। অনেকেই ভাবেন, এমন প্রতিক্রিয়া কেবল ‘খামখেয়ালিপনা’ বা ‘বেশি সংবেদনশীলতা’র ফল। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই বিরক্তি আসলে মস্তিষ্কের শব্দ প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এক স্নায়বিক অসামঞ্জস্যতা।


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই রোগ নিয়ে গবেষণা চলছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মিসোফোনিয়ার সঙ্গে অ্যামিগডালা নামক মস্তিষ্কের অংশের সম্পর্ক রয়েছে যা আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (বিসিটি)-এর মতো মানসিক চিকিৎসা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। ধীরে ধীরে রোগী নিজের ট্রিগার চেনেন এবং প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে শেখেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, এমন কোনও শব্দে বিরক্ত বোধ করলে নিজেকে দোষ দেবেন না। এটা আপনার কোনও বিশেষ সমস্যা নয়, বরং এক বাস্তব স্নায়বিক অবস্থা। মিসোফোনিয়ায় আক্রান্ত মানুষদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সচেতনতা ও সহানুভূতি। পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের বোঝা উচিত, এটি কেবল বিরক্তির বিষয় নয়, বরং চিকিৎসাযোগ্য এক অবস্থা। লক্ষণ চিহ্নিত করে সঠিক চিকিৎসা করলেই সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।