আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুম্বইয়ের রাস্তায় পার্স ফেরি করতে করতে আশপাশের পোস্টারগুলির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকত ছোট্ট ছেলেটি। ফ্যাশন পোস্টারগুলি দেখে সে স্বপ্ন দেখত, একদিন মুম্বইয়ের ফ্যাশন জগত কাঁপাবে। কিন্তু কী করে লক্ষ্যপূরণ হবে? বাড়িতে প্রতিবন্ধী মা। সংসারে চরম আর্থিক অনটন। ফ্যাশন জগতের স্বপ্ন চোখে নিয়েই স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে সাহিল সিং। সেইসময় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নামী সংস্থায় খাবার ডেলিভারির কাজ নেন সাহিল।
রোজগার বাড়াতে কাজ করেছেন খাবার-সংস্থার আউটলেটে। আট মাস একটি মুদির দোকানেও কাজ করেন কিশোর। ইতিমধ্যেই কলেজে পা রাখে সাহিল। তখনও ওই কিশোর জানতেন না, কলেজেই লুকিয়ে আছে তাঁর স্বপ্নপূরণের চাবিকাঠি। ২০১২ সালে স্বপ্ন দেখেছিলেন। একদিন ফ্যাশন দুনিয়ার তারকা হবেন তিনি। আচমকাই এল সুযোগ। কলেজের ফ্যাশন শো-তে অংশ নেন সাহিল। একই সঙ্গে ঠিক করে নেন নিজের প্যাশন। এবার শুরু হয় সাহিলের স্বপ্নপূরণের লড়াই। শুরু হয় ফ্যাশনের ওপর পড়াশোনা।
এখনও বিভিন্ন নামী সংস্থার মডেল হিসেবে কাজ করছেন সাহিল। একটু একটু করে এগিয়ে চলেছেন লক্ষ্যের দিকে। আর্থিক দিক থেকে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশি সাহিল। সাফল্য পেয়ে নিজের অতীত ভোলেননি । ভবিষ্যতে মডেল হতে চায় অথচ আর্থিক সামর্থ নেই, এমন তরুণ-তরুণীদের পাশে দাঁড়াতে মডেলিং সংক্রান্ত ফ্রি গ্রুমিং ক্লাসের এখন তিনি শিক্ষক। একইসঙ্গে নিজের অতীত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সমাজের কাছে এই উঠতি মডেলের আর্জি, ডেলিভারি বয়দের সঙ্গে দয়া করে খারাপ ব্যবহার করবেন না। নির্দিষ্ট সময় আসতে না পারার কারণ জেনে মন্তব্য করুন। সম্মানের সঙ্গে তাঁদের হাতে টাকা দিন। তারা কেউ অচ্ছুত নয়। রোজগারের জন্যই তারা ডেলিভারি বয়ের কাজ করে। প্যারিস ও লন্ডন প্যাশন উইকে অংশ নিতে চান সাহিল। তাই নিজের অর্জিত সাফল্যই নিজের কাছে চ্যালেঞ্জ। সফল যে তাঁকে হতেই হবে। পাখির চোখ যার একমাত্র লক্ষ্য, অর্জুন হওয়া তো তাঁর পক্ষেই সম্ভব।
















