চোখে সামান্য জ্বালা, চুলকানি বা লালভাব হলেই অনেকে নিজের মতো করে আই ড্রপ ব্যবহার করেন। প্রচলিত ধারণা, ওষুধের দোকান থেকে সহজেই পাওয়া যায় বলে এগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আই ড্রপ ব্যবহার করা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকী দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

চোখ আমাদের শরীরের খুবই সংবেদনশীল অংশ। তাই সমস্যার আসল কারণ না জেনে ওষুধ ব্যবহার করলে বিপদ বাড়তে পারে। অনেক আই ড্রপে স্টেরয়েড থাকে, যা ভুলভাবে ব্যবহার করলে চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যায়। এতে গ্লুকোমার মতো গুরুতর রোগ হতে পারে, যা ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টি কমিয়ে দেয়।

অনেকে আবার চোখ লাল হলেই 'রেডনেস রিলিফ' ড্রপ ব্যবহার করেন। এতে সাময়িকভাবে চোখ পরিষ্কার দেখালেও পরে সমস্যা আরও বাড়ে। কারণ এই ধরনের ড্রপ বন্ধ করলে আবার চোখ বেশি লাল হয়ে যায়। যাকে রিবাউন্ড ইফেক্ট বলা হয়।

আরেকটি বড় ভুল হল পুরনো বা খোলা আই ড্রপ ব্যবহার করা। একবার বোতল খুলে ফেললে তাতে জীবাণু ঢুকে যেতে পারে। পরে সেই ড্রপ ব্যবহার করলে চোখে সংক্রমণ হতে পারে। এতে চোখ ফুলে যাওয়া, ব্যথা বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেকেই ভাবেন, সাধারণ 'ড্রাই আই' বা শুষ্ক চোখের ড্রপ ব্যবহার করলে কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু এগুলোতেও কিছু রাসায়নিক থাকে, যা বারবার ব্যবহার করলে চোখে অ্যালার্জি বা জ্বালা বাড়াতে পারে।

ভুল রোগে ভুল ড্রপ ব্যবহার করাও খুব বিপজ্জনক। যেমন ব্যাকটেরিয়ার জন্য যে ড্রপ দেওয়া হয়, তা ভাইরাল সমস্যায় কাজ করে না। আবার স্টেরয়েড ড্রপ অনেক সময় রোগের লক্ষণ চাপা দিয়ে দেয়, ফলে আসল সমস্যা ধরা পড়ে না এবং পরে আরও বড় সমস্যা তৈরি হয়।

সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, আই ড্রপ ব্যবহার করলে অনেক সময় সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। এতে মনে হয় সমস্যা ঠিক হয়ে গিয়েছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে রোগ বাড়তেই থাকে। পরে যখন সমস্যা ধরা পড়ে, তখন অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে। তাই চোখে কোনও সমস্যা হলে নিজের মতো করে ওষুধ না নিয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।