ফ্লোরিডার এক ছোট্ট শিশুকে নিয়ে এখন সারা বিশ্বে চর্চা চলছে। তার নাম ক্যাসিয়ান। তাকে 'মিরাকল বেবি' বলা হচ্ছে, কারণ সে যেন সত্যিই দু’বার জন্মেছে। শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি একেবারে সত্যি।


ক্যাসিয়ানের মা যখন গর্ভবতী, তখন প্রায় ১৯ সপ্তাহে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন যে শিশুটির একটি বিরল সমস্যা হয়েছে। এই রোগের নাম জন্মগত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালী প্রতিবন্ধকতা সিনড্রোম (সিএইচএওএস)। এই অবস্থায় শিশুর শ্বাসনালী ঠিকমতো তৈরি হয় না বা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফুসফুসে তরল জমতে থাকে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে। সাধারণত এই ধরনের সমস্যায় অনেক শিশুই জন্মের আগেই মারা যায়।


প্রথমে চিকিৎসকেরা একটি অস্ত্রোপচার করে সমস্যা ঠিক করার চেষ্টা করেন কিন্তু তাতে পুরোপুরি সাফল্য আসেনি। তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শিশুটিকে বাঁচাতে হলে অন্য উপায় খুঁজতে হত। শেষমেশ চিকিৎসকেরা খুব কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেন।


গর্ভাবস্থার প্রায় ২৫ সপ্তাহে একটি বিশেষ অপারেশন করা হয়। এই অপারেশনে শিশুটিকে পুরোপুরি নয়, আংশিকভাবে মায়ের গর্ভ থেকে বের করা হয়। তার মাথা ও হাত বাইরে আনা হয়, কিন্তু শরীরের বাকি অংশ গর্ভের ভেতরেই রাখা হয়। তখনও সে প্লাসেন্টার মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে অক্সিজেন পাচ্ছিল। এই অবস্থায় চিকিৎসকেরা তার শ্বাসনালীতে অপারেশন করে একটি পথ তৈরি করেন, যাতে সে পরে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে। 


অপারেশন শেষ হলে আবার তাকে মায়ের গর্ভে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই কারণেই বলা হচ্ছে, সে যেন একবার অপারেশনের সময় 'জন্মেছিল' এবং পরে আবার স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয় অর্থাৎ দু’বার জন্ম।


এর প্রায় ছয় সপ্তাহ পর ক্যাসিয়ানের স্বাভাবিক জন্ম হয়। জন্মের পরে তাকে কিছুদিন এনআইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল, কারণ তার বিশেষ যত্নের প্রয়োজন ছিল। ধীরে ধীরে সে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং এখন সে তার পরিবারের সঙ্গে ভালভাবেই রয়েছে।


চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বড় সাফল্য। এত জটিল অবস্থায় একটি শিশুকে বাঁচানো খুব সহজ নয়। এই অপারেশন দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক চিকিৎসা কতটা উন্নত হয়েছে।
ক্যাসিয়ানের পরিবার এখন খুবই খুশি। তারা তার জীবনের এই দুইটি বিশেষ দিন অর্থাৎ অপারেশনের দিন এবং জন্মদিন, দুটোকেই আলাদা করে উদযাপন করতে চান।


এই গল্প আমাদের শেখায়, কঠিন পরিস্থিতিতেও আশা হারানো উচিত নয়। সঠিক চিকিৎসা এবং সাহসী সিদ্ধান্ত অনেক সময় অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলে।